সারা দেশের অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে গত ২৫ জুন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৮০২ আসামির জামিন মঞ্জুর হয়েছে। গত ১১ মে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর ৩০ কার্যদিবসে ৮৪ হাজার ৬৫৭টি আবেদন নিষ্পত্তি করে এসব জামিন মঞ্জুর হয়েছে বলে গতকাল শুক্রবার জানান সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। তিনি জানান, গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ২৫ কার্যদিবসে ৭৩ হাজার ৮৬টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৩৯ হাজার ২০২ জনের জামিন হয় বলে জানান তিনি। গেল সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসে (২১-২৫ জুন) আরও ১১ হাজার ৫৪১টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৫ হাজার ৬০০ জনের জামিন মঞ্জুর হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের তথ্যমতে, গত ২৫ জুন পর্যন্ত ৩০ কার্যদিবসের বিবরণী অনুযায়ী ১২ মে ১৪৪, ১৩ মে ১ হাজার ১৩, ১৪ মে ১ হাজার ৮২১, ১৭ মে ৩ হাজার ৪৪৭, ১৮ মে ৩ হাজার ৬৩৩, ১৯ মে ৪ হাজার ৪২, ২০ মে ৪ হাজার ৪৮৪, ২৭ মে ৮৭৬, ২৮ মে ১ হাজার ৪৪৭, ৩১ মে থেকে ৪ জুন ৬ হাজার ৫৪২, ৭ থেকে ১১ জুন ৫ হাজার ৬৭৫, ১৪ থেকে ১৮ জুন ৬ হাজার ৪৭, ২১ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ৫ হাজার ৬০০ আসামির জামিন মঞ্জুর হয়। এছাড়া আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত ৫৩৬ শিশুর জামিন হয়েছে গত ১৮ জুন পর্যন্ত। ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে জামিন পাওয়া এসব শিশুর মধ্যে ৪৭১ জনকে তাদের অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আদালতে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ছুটির মধ্যে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় গত ১১ মে। এর আগে ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্র্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’-এর খসড়া অনুমোদন লাভের পর ৯ মে এ সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সরকার ঘোষিত ছুটি গত ৩০ মে শেষ হয়। তবে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতিতে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশনায় জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল আদালতে মামলার শুনানি চলবে। আর চেম্বার আদালতে এই পদ্ধতিতে শুনানি হবে ৩০ জুন পর্যন্ত।
