পাওনা মেটাতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ার নিয়ে চম্পট দেওয়া ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মালিকপক্ষ। ডিএসইতে এক ই-মেইল বার্তায় ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মালিকপক্ষ জানিয়েছেন, পাওনাদের চাপে পড়ে ব্রোকারেজ হাউজ বন্ধ করেছেন। গতকাল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক।
তিনি জানান, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মালিকদের কেউ একজন ই-মেইল করে বলেছেন, আর্থিক ও আইনি সহায়তা পেলে দ্রুত ব্রোকারেজ হাউজ খুলতে চান এবং বিনিয়োগকারীদেরও পাওনা বুঝিয়ে দেবেন। তবে এ ই-মেইল ডিএসই আমলে নেবে কি না, পরিষ্কার করেননি ডিএসইর এমডি।
ডিএসই এমডি বলেন, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের গ্রাহকদের হিসাবে এখনো ৮২ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার আছে। এর বাইরে গ্রাহকদের অজ্ঞাতে ব্রোকারেজ হাউজটি কোনো শেয়ার বিক্রি করেছে কি না, তা তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না। এ নিয়ে কাজ চলছে। তবে গ্রাহকরা নিজেরাও এ বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন। তারা যত দ্রুত নিজেদের শেয়ার ও জমাকৃত অর্থের বিষয়ে ডিএসইকে অবহিত করবেন, তত দ্রুত তাদের শেয়ার ও বাকি পাওনা পরিশোধে ব্যবস্থা নেবে ডিএসই।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজের ডিলার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাবগুলো বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউজটির মালিকরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, তার জন্য পল্টন মডেল থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের নামে ডিএসই যে শেয়ার রয়েছে, তাও সিডিবিএলে ব্লক করা আছে। প্রয়োজনে ওই শেয়ার বিক্রি করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। তবে এ শেয়ারের বিপরীতে কোনো ব্যাংক ঋণ দিলে তার দায় ওই ব্যাংকের।
কাজী ছানাউল হক বলেন, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ঘটনা পুঁজিবাজারের জন্য একটি ‘এসিড টেস্ট’। বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ারের সুরক্ষার জন্য নানা ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে কোনো ঘাটতি থাকলে তাও চিহ্নিত করে পূরণ করার কাজ চলছে। ক্রেস্টের ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, কোনো ব্রোকারেজ হাউজ কোনো বিনিয়োগকারীর অজ্ঞাতে শেয়ার বিক্রি করলে এবং জানা গেলে যেন দ্রুত ডিএসইকে জানান। একইভাবে কোনো ব্রোকারেজ হাউজের দেওয়া চেক ব্যাংকে ডিজঅনার হলেও স্টক এক্সচেঞ্জকে জানালে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ছানাউল হক বলেন, মাসিকভিত্তিতে সব ব্রোকারেজ হাউজের কাছ থেকে বিনিয়োগকারীদের কনস্যুলেটেড শেয়ার ও অর্থের হিসাব নেয়। ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ সর্বশেষ যে তথ্য দিয়েছিল, তাতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বা অর্থের কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। ফলে ব্রোকারেজ হাউজটির মালিকরা এমন একটি কা- ঘটাতে পারেনÑ তা বোঝা সম্ভব ছিল না।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মতো আর কোনো ঘটনা দেশের পুঁজিবাজারে যাতে না ঘটে, তার জন্য এরই মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সমন্বিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রাহকদের শেয়ার ও অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হবে। তবে এখনো কিছু বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্টের তথ্যে চালু মোবাইল নম্বর দেওয়া নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোবাইল নম্বর না থাকলে গ্রাহকদের অজ্ঞাতে শেয়ার বিক্রি হলে তিনি জানতেও পারবেন না। নিজের স্বার্থে অবিলম্বে চালু মোবাইল নম্বর বিও অ্যাকাউন্ট তথ্যে সংযুক্ত করার আহ্বান জানান।
এদিকে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের গ্রাহকরা তাদের বিও হিসাবে থাকা শেয়ারের তথ্য জানতে গতকাল সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডে (সিডিবিএল) ভিড় জমান। অন্তত ২৫০ জন বিনিয়োগকারী সিডিবিএলে উপস্থিত হয়ে তাদের বিও হিসাবে থাকা শেয়ারের তথ্য নেন।
অন্যদিকে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ঘটনায় গতকাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জরুরি কমিশন সভা হয়েছে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এখন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জকে সঙ্গে নিয়ে এসইসি সব ব্রোকারেজ হাউজে বিশেষ নিরীক্ষা চালাবে। আইনে শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ হাউজে বছরে একবার ও অন্য ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে দুই বছরে একবার বিশেষ নিরীক্ষা চালাতে পারে কমিশন। এ ঘটনায় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদেরও গতকাল জরুরি সভা হয়েছে, যেখানে বিনিয়োগকারীদের টাকা দ্রুত ফেরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
