প্রস্তাবিত বাজেটে জলবায়ু অভিঘাত প্রশমন ও অভিযোজন পরিকল্পনায় বরাদ্দের সুস্পষ্টতা নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘দ্বৈত গণনার’ নজির রয়েছে। জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বাজেট বরাদ্দে খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি, বন ও পরিবেশের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নের সম্মুখীন। তাই জলবায়ু অভিঘাতপূর্ণ ও দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশের (এনসিসিবি) উদ্যোগে ‘জলবায়ু বাজেট ২০২০-২১-আকাক্সক্ষা : স¦চ্ছতা ও ন্যায্যতা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মূলত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জলবায়ু অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পরিত্রাণ এবং জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় যথাযথ বরাদ্দের দাবিতে নাগরিক সমাজের আকাক্সক্ষা তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গত অর্থবছরের তুলনায় এই বছর মোট বরাদ্দ এবং জলবায়ুসংশ্লিষ্ট বরাদ্দ কিছুটা বাড়লেও আনুপাতিক হারে এই বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় মোট বরাদ্দ ১.৪২ শতাংশ এবং জলবায়ুসংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ০.২৯ শতাংশ কমেছে।’ তিনি বলেন, এই বাজেট বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে আবার অব্যয়িত থেকে যাচ্ছে। বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্থানীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগের মাত্রা বিবেচনা না করে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। সভাপতির বক্তব্যে আমিনুর রসূল বাবুল বলেন, সরকার ডেল্টা প্ল্যানের মতো একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও সেটিকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এবারের বাজেটে আমরা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আশা করেছিলাম, কিন্তু সরকার সেটিও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিবছর জিডিপির কমপক্ষে এক শতাংশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দসহ মোট পাঁচটি সুপারিশ করেছে এনসিসিবি।
