নিরীক্ষা আপত্তির পর এবার তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধারী বা এসএমপি (সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার) অপারেটর হিসেবে বিধিনিষেধ ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বিরুদ্ধে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলো গ্রামীণফোন। বিটিআরসি কর্তৃক ২১ জুন গ্রামীণফোনের ওপর জারি করা দুটি বিধিনিষেধ ঠেকাতে গতকাল হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর। আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এসএমপি অপারেটর হিসেবে গ্রামীণফোনকে দুটি বিধিনিষেধ দিয়েছিল বিটিআরসি। নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে গ্রামীণফোন আগাম অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের নতুন সেবা, অফার বা প্যাকেজ দিতে পারবে না। এখনকার অফার অথবা প্যাকেজও আবার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে ‘লকিং পিরিয়ড’ হবে ৬০ দিন, যা অন্যদের ক্ষেত্রে ৯০ দিন।
বিটিআরসির আরোপিত নতুন ওই বিধিনিষেধ স্থগিত চেয়ে গতকাল উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে গ্রামীণফোন। এ বিষয়ে গতকাল হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট একটি ভার্চুয়াল বেঞ্চে রিট আবেদন করার কথা জানান গ্রামীণফোনের আইনজীবী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আবেদন করেছি। সেখানে রিট মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিটিআরসির এই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ এবং রুল চেয়েছি। তবে মামলার শুনানির জন্য আমরা এখন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না। কারণ গ্রামীণফোন মামলাকে শেষ উপায় হিসেবে দেখতে চায়। ওনারা এখনো বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা করার ব্যাপারে আগ্রহী এবং গ্রামীণফোন আশা করছে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিরসন করা সম্ভব।’
এর আগে নিরীক্ষা আপত্তির ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনা দাবির বিষয়ে বিটিআরসির বিরুদ্ধে আদালতে যায় গ্রামীণফোন। পাওনা দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে গ্রামীণফোন নিম্ন আদালতে একটি মামলা করে ও পাওনা দাবির অর্থ আদায়ের ওপর গ্রামীণফোন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাইলেও গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এর বিরুদ্ধে গ্রামীণফোনের পক্ষে গত ১৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে আপিল করলে গত ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ওই অর্থ আদায়ের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়। অবশ্য হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বিটিআরসি আবেদন করলে আপিল বিভাগে শুনানি হয়। গত বছরের ২৪ নভেম্বর গ্রামীণফোনকে তিন মাসের মধ্যে আপাতত দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ, যা গ্রামীণফোন ইতিমধ্যেই পরিশোধ করেছে।
নিরীক্ষা আপত্তির মামলাটি এখনো চূড়ান্ত সুরাহা হয়নি। এরই মধ্যে এসএমপি হিসেবে বিধিনিষেধ আরোপ করায় আবারও উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলো গ্রামীণফোন।
বিটিআরসি গ্রামীণফোনের ওপর এসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা প্রবিধানমালার (২০১৮) অধীনে। এর আওতায় সংস্থাটি গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধারী (এসএমপি) অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করে। কোনো মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসংখ্যা, রাজস্ব অথবা তরঙ্গ এ তিন ক্ষেত্রের একটিতে ৪০ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যাধারী হলে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করা যায়। গ্রামীণফোন গ্রাহকসংখ্যা ও অর্জিত বার্ষিক রাজস্বের দিক দিয়ে ৪০ শতাংশ বাজার হিস্যাধারী।
বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণার পর গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি চারটি বিধিনিষেধ জারি করে। বিধিনিষেধগুলো ছিল মাসিক কলড্রপের সীমা ২ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা, দেশজুড়ে কোনো প্রচার বা মার্কেট কমিউনিকেশন না করা, এমএনপির (নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদল) ‘লক ইন পিরিয়ড’ ৩০ দিনে কমিয়ে আনা ও অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একক বা স্বতন্ত্র চুক্তি না করা। পরে আবার এসব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আরও একবার বিষয়টি আদালতে নিয়ে গেল গ্রামীণফোন।
