পুঁচকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে উইন্ডিজ ২৫ রানে অলআউট!

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ০২:১২ এএম

ব্রায়ান লারার জন্মের ঠিক দু’মাস পরের ঘটনা। ১৯৬৯ সালের ২ জুলাই। ইংল্যান্ড সফরকারী উইন্ডিজ দুটি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল আয়ারল্যান্ডে। প্রথমটি ছিল একদিনের ম্যাচ। তবে খেলা হয় চার ইনিংস। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উইন্ডিজ মাত্র ২৫ রানে অলআউট! এরপর আয়ারল্যান্ড করে ৮ উইকেটে ১২৫। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ৭৮ রান করে সম্মান বাঁচায় উইন্ডিজ। ম্যাচটা ড্র হলেও নিয়ম অনুসারে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকা আয়ারল্যান্ডকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

অবশ্য ৬৯-এর সেই উইন্ডিজ দল ৭৯-এর মতো অজেয় ছিল না। তাই বলে আয়ারল্যান্ডের কাছে হার! এখনকার দিন হলে নির্ঘাত ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠত। ৫১ বছর আগে সেই অভিযোগ ওঠেনি, কারণ ফিক্সিং শব্দটা তখন ক্রিকেটে অজানা ছিল।

গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিল উইন্ডিজ। সেই দলে ছিলেন তরুণ ক্লাইভ লয়েড। ম্যানেজার ছিলেন ক্লাইড ওয়ালকট। ৪৪ টেস্ট খেলা বাসিল বুচারও ছিলেন নামকরা ব্যাটসম্যান। গড় ছিল চল্লিশের ওপর। বেলফাস্টের কাছে সিয়োন মিলসের সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে অধিনায়কত্ব করেন। টস জিতে তিনি আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

সেই সফরে লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় উইন্ডিজ। খেলা শেষ হয়েছিল ১ জুলাই। অর্থাৎ আয়ারল্যান্ড ম্যাচের আগের দিন। নিয়মিত অধিনায়ক সোবার্স ক্লান্ত ছিলেন। তাই পুঁচকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। লর্ডস টেস্টে বোলিং করে ক্যারিবিয়ান বোলাররাও ক্লান্ত ছিলেন। জেফ্রি বয়কটকে আউট করার জন্য তাদের ঘাম ঝরাতে হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ব্যাট করে লর্ডস টেস্ট ড্র করেছিলেন বয়কট। আগের দিন টেস্ট খেলার ধকল সামলে পরের দিন প্রদর্শনী ম্যাচের বিনোদনের জন্য প্রস্তুত ছিল না উইন্ডিজ। কেউ ম্যাচটা সিরিয়াস ভাবে নেয়নি। কিন্তু আয়ারল্যান্ড নেমেছিল প্রাণ পণ করে।

অধিনায়ক সোবার্স ছাড়াও ল্যান্স গিবস, ভ্যানবার্ন হোল্ডার এবং চার্লি ডেভিসকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। একাদশ পূরণ করতে ম্যানেজার ক্লাদিও ওয়ালকট খেলতে নামেন। আগের দিন সারা রাত বৃষ্টি হয়েছিল। সবুজ উইকেট ভেজা

থাকায় ব্যাটিংয়ের জন্য ভয়ংকর হয়ে ওঠে। যদিও ২ জুলাই খেলা শুরু হয় রোদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে। উইন্ডিজের জে ক্রো আর স্টিভ কামাচো ব্যাট করতে নেমেই টের পেলেন উইকেট মৃত্যুকূপ হয়ে আছে। আইরিশ ডগলাস গুডউইন আর বামহাতি মিডিয়াম পেসার অ্যালেক ও’রিয়োরডান বোলিং ওপেন করেন। প্রথম দুই ওভার শেষে উইন্ডিজের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১ রান। বিবিসি সেই ম্যাচ কাভারের জন্য টিভি ক্রু পাঠিয়েছিল। ওরা মাঠে যাওয়ার আগেই উইন্ডিজের তিন উইকেট শেষ। প্রথম ইনিংসে উইন্ডিজ মাত্র ২৫.৩ ওভার টিকতে পেরেছিল। কেউ দুই অঙ্কের রান করতে পারেনি। চারজন শূন্য রানে আউট। গ্যারিসন শিলিংফোর্ড ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। গুডউইন ১২.৩ ওভারে ৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। ১৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ও’রিয়োরডন নেন ৪ উইকেট। দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন ‘জ্যামাইকা গ্লিনারের’ সাংবাদিক এলডি রবার্টস। ইনিংস শেষ হওয়ার পর গ্যালারিতে উইন্ডিজের পতাকা উড়তে দেখে তিনি লিখেছিলেন, ‘মেরুন রঙের পতাকা অর্ধনমিত থাকলেই ভালো হতো।’

আয়ারল্যান্ড খেলতে নেমে ৮ উইকেটে ১২৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয়েছিল ২১ বছরের মাইক রেথের। তার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে আছে সেই ম্যাচ। উইন্ডিজকে হারানোর অনুভূতি সম্পর্কে রেইথ পরে বলেন, ‘আমার কাছে ঘটনাটা এখনো অবাস্তব মনে হয়। যদিও ওটা ইংল্যান্ড সফর করা সেরা উইন্ডিজ দল ছিল না। তবে সেই দলে কয়েকজন নামি টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন। ক্লাইভ লয়েড স্বয়ং ছিলেন। যিনি পরে উইন্ডিজের অজেয় দলে অধিনায়কত্ব করেছেন।’

উইন্ডিজের সেই ব্যর্থতা সম্পর্কে গুজব ছড়ায়। অনেকের ধারণা ছিল সারা রাত নাইট ক্লাবে মাস্তি করে পরের দিন খেলতে পারেনি উইন্ডিজ। অথচ মাইক রেইথ জানান, ‘ড্রিঙ্ক করা তো দূরের কথা, নাইটক্লাবের আশপাশেও যাননি ক্যারিবিয়ানরা। আসলে লর্ডস টেস্ট খেলে তারা ক্লান্ত ছিল। তাছাড়া উইন্ডিজ সব সময় শুষ্ক উইকেটে খেলে অভ্যস্ত। ওখানে উইকেট ছিল ভেজা।’

সেই ঘটনার দুমাস আগে জন্মেছিলেন ব্রায়ান লারা। তিনি ঘটনার ৩৫ বছর পর আয়ারল্যান্ডের কাছেই উইন্ডিজের আরেকটি পরাজয় দেখেন স্বচক্ষে। নির্দিষ্ট করে বললে মাঠে থেকে এবং পরাজিত দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালের ১৭ জুন বেলফাস্টে একটি ৫০ ওভারের ম্যাচে ২৯২ রান করেও হেরেছিল ব্রায়ান লারার দল। ৬ উইকেটে জয় পেয়েছিল আয়ারল্যান্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত