প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনেও কাকপক্ষীর দেখা পায়নি ঢাবি

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ০৭:১৮ এএম

শিক্ষা ও গবেষণায় গুণগত মান নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দিবস উদযাপন করেছে ঢাবি কর্র্তৃপক্ষ। দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : প্রসঙ্গ আন্দোলন ও সংগ্রাম।’ গতকাল বুধবার এ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম।

এর আগে সকাল ১০টায় করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দিবসটি উদযাপন অনুষ্ঠানে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ওড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সীমিত সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

বেলা ১১টায় অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়। সভার শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী, বিগত বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুবরণকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং করোনা মহামারীতে চিকিৎসক, নার্স ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলামসহ তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি এবং চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা যুক্ত হন।

ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মহান স্বাধীনতা আন্দোলনসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এসব আন্দোলনে বিভিন্ন সময় অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হন এবং আত্মত্যাগ করেন।’

দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য অবদান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় নয়, বরং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তার উদ্বোধনী ও ভার্চুয়াল আলোচনা সভার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ‘এবার বিশ্ববিদ্যালয় দিবস এমন এক সময় উদযাপন হচ্ছে যখন ‘মুজিববর্ষ’ চলমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উৎসব এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উদযাপনের জন্য আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। কিন্তু ‘কভিড-১৯’ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই মাহেন্দ্রক্ষণকে আমরা জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করতে পারছি না। এই অবস্থা কেটে যাবে এবং অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা বর্ণাঢ্যভাবে উৎসব উদযাপন করব।’

উপাচার্য আরও বলেন, গবেষণার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই হবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উৎসবের অঙ্গীকার।’

১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালে তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ ও তিনটি আবাসিক হল নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল ৬০ জন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র ও শিক্ষকরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত