করোনা পরীক্ষার ফি দেওয়ার সামর্থ্য নেই গরিবের : কাদের

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ০৭:২৩ এএম

গরিব, খেটে খাওয়া মানুষদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফি দেওয়ার সামর্থ্য নেই মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের জন্য তা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসা থেকে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি। 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের এ সময় কোরবানির পশুর হাট করোনা সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে যত্রতত্র পশুর হাটের অনুমতি না দেওয়ারও আহ্বান জানান।

শুরু থেকে সরকারি ব্যবস্থায় বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের নমুনা করা হলেও সম্প্রতি এজন্য ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বুথ থেকে নমুনা সংগ্রহ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২০০ টাকা করে আর বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করলে ৫০০ টাকা ফি লাগবে বলে গত ২৯ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে জানানো হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, গরিব, খেটে খাওয়া মানুষের ফি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। তারা পরীক্ষার বাইরে থেকে যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি। তিনি বলেন, করোনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণের বিষয়টি সম্প্রতি আলোচিত হচ্ছে। এতে অসহায় দরিদ্র মানুষ পরীক্ষা থেকে দূরে থাকবে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে আরও দ্রুতগতিতে। আসন্ন কোরবানির পশুর হাট করোনা সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা তৈরি করছে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে কার্যকর একটি গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। যত্রতত্র পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, তাই আমি সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে আগেই করণীয় নির্ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে মহাসড়কের ওপর কিংবা পাশে হাটের অনুমতি দেওয়া যাবে না। অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বেশ কয়েকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন. ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি প্রতিটি বিষয়ে গভীরভাবে মনিটর করছেন। আমি বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পাশাপাশি সময়ের সাহসী যোদ্ধা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তরুণদের অনেকের মধ্যে উদ্বেগহীন চলাচল, সামাজিক দূরত্ব না মানা ও জনসমাগমে যাওয়ার প্রবণতার কারণে সংক্রমণ বেশি। তাদের থেকেই পরিবারের অন্য সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছে বা আশঙ্কায় রয়েছে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা ঝুঁকিতে পড়ছে, প্রাণ হারাচ্ছে। তাই আমি তরুণ-যুবকসহ সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করছি। সরকার নতুন করে ঢাকা মহানগরের কিছু এলাকাসহ অনেক জেলায় নির্দিষ্ট স্থানে লকডাউন কার্যকর করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় লকডাউন শেষ হয়েছে সেখানে ইতিবাচক ফল এসেছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় এখন চলমান ও সামনে আসছে আপনারা ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন। সরকারকে সহযোগিতা করুন। এই আপাত বিচ্ছিন্নতা আমাদের সবার কল্যাণের জন্য। সাময়িক এই বিচ্ছিন্ন থাকা দীর্ঘমেয়াদে প্রিয়জনের সান্নিধ্য নিশ্চিত করার জন্য। ওবায়দুল কাদের বলেন, সংক্রমণ এখন ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রামে। একটি রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে তা সীমাবদ্ধ সুযোগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য। আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি। এমন পরিস্থিতিতে নিজের দায়িত্ব নিজেকে নিতে হবে। পরিবারের দায়িত্ব পরিবারকে নিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত