নীলফামারীতে নতুন করে চার চায়না নাগরিকের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৫৩ জনে।
আক্রান্তদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সৈয়দপুর উপজেলায় আব্দুর রাজ্জাক (৮৫) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের মৃত্যু হলে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাত জনে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র মতে, গত বৃহস্পতিবার রাতে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগার থেকে চারজনের করোনা সংক্রমণের তথ্য আসে। শনাক্ত ওই চার জন জেলার উত্তরা ইপিজেডের মাজেন (বিডি) ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে কর্মরত চায়না নাগরিক।
এর আগে গত ২৯ জুন কোম্পানিতে কর্মরত একজন চায়না নাগরিক এবং ২২ জুন অপর এক কর্মকর্তার করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
জেলায় আক্রান্ত ৩৫৩ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৭৫ জন। বাকিরা নিজ বাড়িসহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তিন হাজার ৪৪৯। ফলাফল পাওয়া গেছে তিন হাজার ৭১টি। নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ১০৮টিসহ জেলায় মোট আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ১৯৮টি।
বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৯৭ জন।
জেলায় ছয় উপজেলায় আক্রান্তের মধ্যে জেলা সদরে ১১৫ জন, জলঢাকায় ৬৮ জন, ডিমলায় ৫১ জন, সৈয়দপুরে ৫০ জন, ডোমারে ৪০ জন ও কিশোরগঞ্জে ২৯ জন।
মৃতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নে এক জন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার পর তার নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ হয়।
অপরদিকে উপসর্গ নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা উপসর্গ দিয়ে মারা যাওয়ার পর নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে।
নীলফামারী জেলা সদরের দুই ব্যক্তি উপসর্গ নিয়ে নমুনা দেওয়ার পর মারা যান। পরে তাদের করোনা পজেটিভ আসে। জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নে এক নারীসহ দুইজন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সর্বশেষ করোনা শনাক্ত হওয়ার পর রংপুরে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১ জুলাই মারা যান সৈয়দপুর শহরের টেকনিক্যাল কলেজপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক (৮৫)।
সিভিল সার্জন রনজিত কুমার বর্মন এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় তিন হাজার ৪৪৯টি সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৭১টির ফলাফলে ৩৫৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
