ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধের হুমকি আইএসপিএবির

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ০৬:৫৫ এএম

ইন্টারনেট খাতে ভ্যাট জটিলতার সমাধান না হলে সারা দেশে কিছু সময়ের জন্য সেবা বন্ধ রাখার আভাস দিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। গতকাল শনিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল হাকিম।

আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, ‘ভ্যাট জটিলতার সমাধান না হলে সীমিত আকারে সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। সুবিধামতো সময়ে দুই থেকে এক ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখব। কবে কখন এই কর্মসূচি নেওয়া হবে তা সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।’ চলতি জুলাই মাসের মধ্যে দাবি না মানা হলে এ কর্মসূচিতে যাবেন বলে জানান আমিনুল হাকিম।

আইএসপিএবি মনে করছে, গ্রাহক পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) খাতে ১৫ শতাংশ আরোপিত ভ্যাট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার কারণে চলমান ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

আমিনুল হাকিম বলেন, ‘৫% ভ্যাট ইন্টারনেট গ্রাহক থেকে আদায় করে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো। আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ভ্যালু চেইনের অন্যান্য খাত আইএসপিগুলো থেকে আদায় করে থাকে। এর ফলে ৫ শতাংশ ভ্যাট গ্রাহক থেকে আদায় করা হলেও আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএনকে ১৫% হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হচ্ছে। সবমিলে প্রায় ৩৫% ভ্যাট বাবদ খরচ দিতে হচ্ছে আইএসপিগুলোকে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইন্টারনেটে ৫% ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য খাতে ১৫% ভ্যাট নির্ধারিত হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা খাতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ইন্টারনেটের প্রতিটি স্তরে (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) ৫% ভ্যাট আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। কিন্তু এর কয়েক মাসের ব্যবধানে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে পুনরায় ইন্টারনেট সেবায় ৫% ভ্যাট এবং অন্যান্য স্তরে ১৫% ভ্যাট আরোপ করায় বিষয়টিতে আবারও আগের জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য ৩০% থেকে ৪০% বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

ইন্টারনেটে ৫% ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য খাতে ১৫% ভ্যাট আরোপকে ‘বৈষম্যমূলক’ এবং মূসক আইনের ‘পরিপন্থি’ বলেও আইএসপিএবি মনে করছে বলে জানান আবদুল হাকিম।

ইন্টারনেটে ভ্যাট আরোপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইএসপিএবির প্রস্তাব তুলে ধরে আমিনুল বলেন, ‘ইন্টারনেটের সব ক্ষেত্রে ৫% অথবা ০% হারে ভ্যাট আরোপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে (ইন্টারনেট সেবায় ৫% ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য ১৫% ভ্যাট) জটিলতা নিরসন হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও দূর হবে। এর ফলে সর্বস্তরের ইন্টারনেট গ্রাহক ও দেশের জনসাধারণ অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আসতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দাবি মানা না হলে ইন্টারনেট বন্ধের এ কর্মসূচি ধাপে ধাপে অর্থাৎ প্রতি মাসে বা সপ্তাহে সপ্তাহে চলমান থাকবে।’ করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিল আদায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেলেও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে আসছে বলে জানান আবদুল হাকিম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত