অনলাইনে ডলার কেনাবেচার নামে প্রতারণার ফাঁদ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ০৬:২৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে বসে ফেইসবুকে ডলার কেনাবেচার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে চলেছে একটি চক্র। ফেইসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশের বেকার যুবকদের ডলার কেনাবেচার কথিত এজেন্ট বানিয়ে কৌশলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। শুধু তাই নয়, আর্থিকভাবে ক্ষতির পাশাপাশি জেল-জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে প্রতারণার শিকার ওইসব বেকার যুবককে। সম্প্রতি এক প্রতারণার মামলার তদন্তে নেমে এসব তথ্য জানতে পেরেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ভুক্তভোগী মো. মিজানুর রহমানের করা মামলায় গত শনিবার রাজধানীর মিরপুর থেকে হামিম হাসান ও মোস্তফা তাসলিম নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় গতকাল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। একই প্রতারক চক্রের আবদুর রউফ নামে আরেক সদস্যকে এর আগে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

ডিবির স্যুটিং ইন্সিডেন্ট টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আশরাফউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রে বসে অনলাইনে ডলার কেনাবেচার নামে প্রতারণা করছে। তারা যে ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে সেগুলো ফেইক বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূল প্রতারক সিয়াম আহমেদ নাহিদকে এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। মূলত তার ফাঁদে পা দেওয়া প্রতারণার শিকার হওয়া মানুষদের মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেকে আড়াল করার কারণে তাকে চিহ্নিত করতে পুলিশের বেগ পেতে হচ্ছে। তবে মূল প্রতারককে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ডিবির তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সে পড়া মো. মিজানুর রহমান চাকরি খুঁজছিলেন। হঠাৎ এক দিন সিয়াম আহমেদ নাহিদ নামে একটি ফেইসবুক অ্যাকাউন্টের ওয়ালে একটি চাকরির বিজ্ঞাপন দেখেন। সেখানে ‘ইথেকয়েন’ (ঊঃযবপড়রহ) নামে একটি স্টার্টআপ কোম্পানিতে কিছু তরুণকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়। মাসিক বেতনও খারাপ নয়। শুরু ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। মিজানুর রহমান এ বছরের প্রথম দিকে সিয়াম আহমেদ নাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ম্যাসেঞ্জারে। নাহিদ বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাতে থাকেন। ইথেকয়েন কোম্পানিকে একটা ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান। এটা মূলত ডলার বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম। সেখানে এজেন্টের চাকরি দেয় মিজানুরকে।

এদিকে মো. হামিম হাসান নামে এক ব্যক্তির স্ক্রিল ((Skrill) এবং নেথেলার (Neteller) অ্যাকাউন্টে কিছু ডলার প্রয়োজন হলে তিনি সিয়াম আহমেদ নাহিদের ফেইসবুক ওয়ালে ডলার কেনাবেচার বিজ্ঞাপন দেখে তার সঙ্গে ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করেন। হামিম হাসান ৭২ হাজার টাকার ডলার কিনবেন বলে নাহিদকে জানালে নাহিদ হামিমকে আশ্বস্ত করেন। নাহিদ ঢাকা ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে হামিম হাসানকে টাকাটা পাঠিয়ে দিতে বলেন। নাহিদ মিজানুরকে তার গ্রান্টার হিসেবে হামিমের কাছে পাঠান। গত ৩ মার্চ মিজানকে চাকরির প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে মিরপুরের বাসিন্দা হামিম হাসানের কাছে পাঠানো হয়। হামিম হাসান আশ্বস্ত হয়ে ঢাকা ব্যাংকের মো. আবদুর রউফ নামে একজনের অ্যাকাউন্টে ৭২ হাজার টাকা পাঠান। মিজানুর প্রেরিত টাকার রসিদের একটি ছবি নাহিদের কাছে ম্যাসেঞ্জারে পাঠান। ছবি পাঠানোর পাঁচ মিনিট পর মিজানুর দেখতে পান নাহিদ তাকে ফেইসবুকে ব্লক করে দিয়েছেন। এরপর হামিম হাসান তার ফেইসবুকে ঢুকে দেখেন যে তাকেও ব্লক করে দিয়েছে নাহিদ। হামিম হাসান এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন মিজানুরকে আটকে মারধর করেন। এরপর মিজানুরের স্বজনদের ডেকে নগদ ২০ হাজার টাকা আদায় করেন এবং ৫০ হাজার টাকার একটা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন।

ডিবির কর্মকর্তারা আরও জানান, তারা তদন্তে নেমে প্রথমে ঢাকা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারী আবদুর রউফকে গ্রেপ্তার করেন। মিজানুর আবদুর রউফসহ হামিম হাসান এবং তার পরিবারের অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করায় আবদুর রউফকে আদালতে পাঠানো হয়। আবদুর রউফ মূলত একজন ফ্রিল্যান্সার। তিনি আপওয়ার্কে কাজ করেন। ফেইসবুক ও ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট প্রমোট করে ডলার উপার্জন করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মার্কেটিংয়ের কাজ করেন তিনি। তবে তার মূল পেশা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট। আর্থিক সচ্ছলতার আশায় তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কিছু কাজ করে থাকেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত