বিদ্যমান সরকারি নিয়ম মেনে আবারও কন্ট্রাক্ট রিসার্চ ফার্মের (সিআরও) মাধ্যমে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে তাদের অ্যান্টিবডি কিটের সক্ষমতা (ভ্যালিডেশন) যাচাইয়ের সুযোগ দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডি)। গতকাল রবিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কভিড-১৯ ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার সাংবাদিকদের এ কথা জানান। প্রতিনিধি দলে মুহিব উল্লাহ খোন্দকার ছাড়াও ছিলেন কিট উন্নয়ন দলের প্রধান বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল ও ডা. নিহাদ আদনান।
মুহিব উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ডিজিডি আমাদের কথা পজিটিভলি শুনেছেন। অ্যান্টিবডি কিটের বিষয়ে আমাদের ইন্টারনাল ভ্যালিডেশন রিপোর্টকে আমলে এনে নিবন্ধন দেওয়ার অনুরোধ করেছি আমরা। তারা বিদ্যমান সরকারি নিয়মে আবার সিআরওর মাধ্যমে ইউএস এফডিএ আমব্রেলা গাইডলাইন্স অনুযায়ী এক্সটারনাল ভ্যালিডেশান করতে বলেছেন। আগামী বুধবার অ্যান্টিজেনের নীতিমালা ফাইনাল হবে। তারপর ওষুধ প্রশাসন আমাদের একটা ফরম্যাট পাঠাবে। সেই অনুযায়ী প্রটোকল আপডেট করে জমা দিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন কিছু করতে গেলে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী আবার একই রকম সিআরওর মাধ্যমে এক্সটারনাল ভ্যালিডেশন করতে হবে। তারা যে নতুন গাইডলাইন দিয়েছে, সেটা অনুযায়ী করতে হবে। আমরা সেটা করব।
এর আগে ১৭ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গণস্বাস্থ্যের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন জমা দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে। কিন্তু গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনা অ্যান্টিবডি কিটের সেনসিটিভিটি গ্রহণযোগ্য মাত্রার নিচে হওয়ায় নিবন্ধন দেয়নি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
এদিকে গত শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বরাত দিয়ে বলা হয়, ডিজিডি মহাপরিচালক আগামীকাল (রবিবার) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের (জিকে) আপডেটেড অ্যান্টিবডি কিটের তথ্য-উপাত্ত জানতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ডেকেছেন। ডিজিডি যদি আমাদের কিটের অনুমতি দেয় তবে আমরা জনগণের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে ৫ হাজার অ্যান্টিবডি কিট তৈরি করব। জিকে গবেষকরা এরই মধ্যে ডিজিডিএর নির্দেশিকা বজায় রাখার জন্য জিকের অ্যান্টিবডি কিট আপডেট করেছে এবং ডিজিডিএ তাদের বৈজ্ঞানিক নথি উপস্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমি (ডা. জাফরুল্লাহ) আশা করি, ডিজিডিএ এখন আমাদের কিটে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হবে এবং অনুমতি দেবে।
শিগগিরই করোনা রোগীদের জন্য ১৫ শয্যার আইসিইউ করবে গণস্বাস্থ্য : গত শনিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে জানানো হয়েছে, শিগগিরই করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য ১৫ শয্যার আইসিইউ করতে যাচ্ছে গণস্বাস্থ্যের নগর হাসপাতাল। এজন্য তারা দেশবাসীর কাছে অনুদানের আবেদন জানিয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুন এক বিজ্ঞপ্তিতে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল (উপাধ্যক্ষ) ও কভিড-১৯ ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেছিলেন, ‘গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল করোনা রোগীদের জন্য শিগগিরই ১৫ শয্যার একটি আইসিইউ চালু করতে যাচ্ছে। অসুস্থতার মধ্যেও অর্থ জোগাড়ের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং সার্বিক কর্মকা-ের পর্যবেক্ষণও করছেন তিনি।’
