আট হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অনিশ্চিত

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ০৬:০৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী। তবে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে এসব বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুধু অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এসব শিক্ষার্থীর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। সোমবার এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটির কর্র্তৃপক্ষ। আর তেমনটি হলে দেশটিতে অবস্থান করা কয়েক লাখ বিদেশি শিক্ষার্থীর মতো প্রায় হাজার আটেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও পড়বেন চরম বিড়ম্বনায়। 

মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বলছে, সশরীরে উপস্থিত থাকার দরকার আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনো কোর্সে ভর্তি না থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। প্রয়োজনে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করা হবে। 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষই অনলাইন কোর্সের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু এখন কর্র্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত তাদের বিস্মিত করেছে। পাশাপাশি হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী যারা যুক্তরাষ্ট্রে আসার পরিকল্পনা করছে এবং ইতিমধ্যেই যারা দেশটিতে পড়াশোনা করছে তাদের ওপর এ সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দেশের একটি যেসব দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়। গত শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি।

এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডেকোটার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মারিয়া জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, সেখানে অনেক আন্ডার গ্র্যাজুয়েটস স্টুডেন্ট, মাস্টার্স স্টুডেন্টস আছে। ভিনদেশি হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখানে গবেষণা (রিসার্চ) করেন। এই সিদ্ধান্তে সব বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে যারা হাইব্রিড তাদের স্ট্যাটাস লিগ্যাল হবে। তখন তাদের যুক্তরাষ্ট্র তাড়াতে পারবে না।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে সরাসরি ক্লাস করেছি। এরপর করোনায় নতুন এই পরিস্থিতি তৈরি হলে আমরা অনলাইনে কোর্স শিফট করেছি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই তাদের আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন কোর্স অনলাইনে করার অনুমতি দিয়েছিল স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি)। তবে সোমবার নতুন সিদ্ধান্তের ঘোষণায় এ ধরনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের যাবতীয় কোর্স অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্তের দিনই শিক্ষার্থীদের দেশত্যাগ সংক্রান্ত এ নির্দেশনা জারি করে কর্র্তৃপক্ষ। তবে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের এমন নির্দেশনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ল্যারি ব্যাকাউ। ল্যারি ব্যাকাউ বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের জারি করা নির্দেশনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষত অনলাইন প্রোগ্রামগুলোর শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার ঘোষণার ব্যাপারে উদ্বেগ রয়েছে। এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি জটিল সমস্যা। আমাদের ছাত্ররা যাতে বছরের মধ্যবর্তী সময়ে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য না হয়, তাদের একাডেমিক অগ্রগতি যেন ব্যাহত না হয় এবং এ ধরনের ভীতি ছাড়াই যাতে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিতকল্পে সাধ্যমতো আমাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত