অবশেষে বিচারের মুখে গিলেইন ম্যাক্সওয়েল

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ০১:০৮ এএম

বেশ কয়েক বছর লুকিয়ে থাকার পর ২ জুলাই এফবিআইয়ের হাতে ধরা পড়েছেন গিলেইন ম্যাক্সওয়েল। অভিজাত নারী হিসেবেই সবাই তাকে চিনলেও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে শিগগিরই তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আলোচিত এই নারীর নানা উত্থান-পতন নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি

ব্রুকলিনের কুখ্যাত কারাগার

গ্রেপ্তারের পর নিউ ইয়র্কে ব্রুকলিনের একটি জেলে বন্দি আছেন ৫৭ বছর বয়সী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল। এই নিউ ইয়র্ক শহরেই অভিজাত মহলে একসময় তিনি দাপিয়ে বেড়াতেন। কেতাদুরস্ত এই নারী বিশ্বের নামকরা সব সেলিব্রেটি, প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে রাজকীয় পরিবারগুলোর সঙ্গেও বিভিন্ন হাই-ক্লাস পার্টিতে সময় কাটিয়েছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের সঙ্গেও অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছেন বলে শোনা যায়। একসময় বিলাসবহুল জীবন কাটালেও এখন তিনি ব্রুকলিনের কুখ্যাত জেলখানা মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি সময় পার করছেন। এটি সেই জেলখানা, যাকে ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’-এর মতো বলে মন্তব্য করেছিলেন এক মার্কিন আইনজীবী।

ব্রুকলিনের কুখ্যাত জেল সম্পর্কে আরও জানা গেছে, গত বছর পুরো এক সপ্তাহ এই এলাকাটি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। ফলে প্রচ- শীতের মধ্যে অন্ধকার কুঠুরিগুলোতে অসহনীয় দুর্দশা পোহাতে হয় বন্দিদের। শুধু তাই নয়, ওই সময়টিতে বেশ কয়েকজন নারী বন্দিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে।

ব্রুকলিনের জেলে ১০ ফুট বাই ১২ ফুটের একটি অন্ধকার কুঠুরিতে গিলেইন কতদিন বন্দি থাকবেন তা এখনো অজানা। বিচারের মুখোমুখি হবে এমন বন্দিদেরই মূলত এই জেলে রাখা হয়। গিলেইনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতা ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ক্রিস্টিন এভারডেলের মতো নামকরা আইনজীবীরা গিলেইনের হয়ে আদালতে লড়বেন। গিলেইন যেন আত্মহত্যা করে না বসেন সেজন্য তার ওপর কড়া নজরদারিও রয়েছে। সমাজের উঁচু শ্রেণির নারী হয়েও কেন তার আজ এমন পরিণতি তা জানার জন্য ফিরে যেতে হবে অতীতে।

নিউ ইয়র্কে গিলেইন

১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে ইংল্যান্ড থেকে নিউ ইয়র্কে পাড়ি জমান গিলেইন। জীবনকে নতুন করে শুরু করতে চেয়েছিলেন তিনি। কারণ নিউ ইয়র্কে পা রাখার কিছুদিন আগেই তিনি তার বিখ্যাত বাবাকে হারিয়েছিলেন। তার বাবা ছিলেন ব্রিটিশ মিডিয়া মোগল রবার্ট ম্যাক্সওয়েল। বাবাকে হারানোর সঙ্গে সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পারিবারিক সম্পত্তিও হাতছাড়া হয়ে যায় পরিবারটির। বলা যায়, বিত্ত-বৈভব থেকে রাতারাতি নিঃস অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করেন গিলেইন।

নিউ ইয়র্কে অবস্থান করার কিছু দিনের মধ্যেই নতুন এক প্রেমিকের সন্ধান পেয়ে যান তিনি। সেই প্রেমিক ছিলেন, জেফ্রি অ্যাপস্টেইন। বিপুল সম্পদের পাহাড় তার। অ্যাপস্টেইনের হাত ধরেই জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো উত্থান ঘটে গিলেইনের। এ দুজনের সম্পর্ককে অনেকেই ‘পারস্পরিক উপকারিতার সম্পর্ক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা হয়ে যান একে অপরের নিরাপদ সহযোগী। নিউ ইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অ্যাপস্টেইনের বিলাসবহুল বাড়িগুলোতে নিয়মিত থাকতে শুরু করেন গিলেইন। অ্যাপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেট বিমান নিজের মতো করেই ব্যবহার করতেন তিনি। শুধু তাই নয়, শিগগিরই নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে নিজের মালিকানাধীন একটি পাঁচতলা ভবনও নির্মাণ করেন তিনি।

ব্রুকলিনের পার্শ্ববর্তী কোনি আইল্যান্ডে বেড়ে উঠেছিলেন ঘিসলাইনের বিত্তশালী প্রেমিক অ্যাপস্টেইন। কলেজে ওঠার পরই পড়াশোনা বাদ দিয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন হ্যাজফান্ডে তিনি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে নিজেই একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ আয় করতে শুরু করেন। কিন্তু সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষদের সঙ্গে তার পরিচয় ও ওঠাবসার সুযোগ হয় গিলেইনের সহযোগিতায়। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স এন্ড্রু পর্যন্ত তার বিলাসবহুল বাড়িগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত অ্যাপস্টেইনকে করুণ পরিণতি বরণ করে নিতে হয়। অপ্রাপ্ত বয়স্ক কয়েকজন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ মাথায় নিয়েই জেলের ভেতর আত্মহত্যা করেন তিনি। অ্যাপস্টেইনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান গিলেইন ম্যাক্সওয়েল। ধীরে ধীরে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতা ও অ্যাপস্টেইনকে নিয়মিত অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে অ্যাপস্টেইন ধর্ষণ করেছে এমন তিনজন নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলেন গিলেইন নিজেও।

ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাপস্টেইনের ধর্ষণ সম্পর্কিত মামলার কয়েক হাজার সিল করা নথি খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এতে বিভিন্ন অপকর্মে অ্যাপস্টেইন ও গিলেইন কতটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তা প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বার্থের সম্পর্ক

এটা নিশ্চিত যে, স্বার্থগত দিক থেকে অ্যাপস্টেইন ও গিলেইন এক গভীর সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন। তাদের রোমান্স শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই সম্পর্ক চলমান ছিল। অ্যাপস্টেইনের বিশাল প্রাসাদের মতো বাড়িগুলোর ম্যানেজমেন্ট এক হাতে সামলানো ছাড়াও তার ব্যবসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ও সামাজিক সম্পর্কগুলো দেখভাল করতেন গিলেইন।

ফ্লোরিডার পাম বিচে অ্যাপস্টেইনের একটি বাড়ি ছিল। সেখানকার এক কর্মচারী গিলেইনকে ওই বাড়িটির ‘কর্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেন। নিউ ইয়র্কে অ্যাপস্টেইন ও গিলেইনের দেওয়া এক পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন ইউয়ান রেলি নামে এক ব্যাংকার। গিলেইন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি অ্যাপস্টেইনের প্রেমিকা, কখনো কর্মচারী, কখনো বেস্ট ফ্রেন্ড কিংবা সমঝোতাকারী।’ অ্যাপস্টেইনের দ্বারা নিগৃহীত এক নারী আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে গিলেইনকে ‘মাদাম’ বলে সম্বোধন করেন।

 ২০০৫ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচে অ্যাপস্টেইনের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ১৪ বছরের এক কিশোরীকে তিনি যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ করেন ওই কিশোরীর বাবা-মা। নিজের দোষ স্বীকার করে নিলে ২০০৮ সালে অ্যাপস্টেইনকে ১৩ মাসের জেল দেওয়া হয়। এ সময় তার যাবতীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদের দেখাশোনা করেছেন গিলেইন। এছাড়া সেই সময়টিতে সামাজিক নানা কর্মকা-ের সঙ্গেও জড়িত হন তিনি। পরিবেশগত দিক থেকে সমুদ্রগুলোকে বাঁচানোর জন্য একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই ইস্যুতে অনেক বড় বড় মঞ্চে তিনি বক্তব্য প্রদান করেন। যোগ দিয়েছিলেন ক্লিনটন দম্পতির কন্যা চেলসি ক্লিনটনের বিয়েতেও। সেই সময়গুলোতে হাফিংটন পোস্টের প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ানা হাফিংটন ও ই-কমার্স ব্যবসার পথিকৃৎ মার্থা স্টুয়ার্টের সঙ্গেও তাকে নিয়মিত দেখা গেছে। ভ্যানেটি ফেয়ারের অস্কার পার্টিতে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা স্পেস-এক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের পাশেও তাকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গেছে।

কিন্তু ২০১৫ সালে অ্যাপস্টেইনের বিরুদ্ধে যখন আরও কয়েক ডজন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন তখন তার এসব অপকর্মে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠতে থাকে গিলেইনের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৬ সালে ব্রুকলিনে নিজের পাঁচতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি বিক্রি করে নিরুদ্দেশ হয়ে যান আলোচিত এই নারী। নিউ ইয়র্কের হাই প্রোফাইল পার্টিগুলোতে তাকে আর দেখা যাচ্ছিল না। পরের বছর গিলেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন এক মার্কিন বিচারক। এ সময় তার আইনজীবী দাবি করেন, তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। তবে, ঠিকানা অজানা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান জেনে ফেলতে সক্ষম হয় মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তিনি আমেরিকাতেই লুকিয়েছিলেন। গত ২ জুলাই নিউ হ্যাম্পশায়ারের জঙ্গলাকীর্ণ একটি এলাকায় বিলাসবহুল একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন পুলিশ। এই বাড়িটির ভেতরে রান্না আর পড়াশোনা করেই সময় কাটছিল তার। ১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বাড়িটিতে গিলেইন অবস্থান করছেন তা ঘুণাক্ষরেও কেউ জানতেন না।

বিত্তশালী পরিবারের কন্যা

ইংল্যান্ডের বাকিংহ্যামশায়ারে ৫৩ কক্ষের একটি বিশাল বাড়িতে বেড়ে উঠেছেন গিলেইন। তার বাবা রবার্ট ম্যাক্সওয়েল ছিলেন চেক বংশোদ্ভূত, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। রবার্টের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় দারুণ সফল প্রকাশনী প্যারাগন প্রেস। এই প্রেস থেকে বিজ্ঞান ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বই প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডের মালিকানা ভোগ করেন রবার্ট। এসব ট্যাবলয়েডের মধ্যে ‘দ্য মিরর’ অন্যতম। এমটিভি ইউরোপ ও আমেরিকান প্রকাশনী সংস্থা ‘ম্যাকমিলান’-এ তার অংশীদারত্ব ছিল।

রবার্টের নয় ছেলে-মেয়ের মধ্যে গিলেইন ছিলেন সবার ছোট। এই পরিবারটির একটি প্রমোদতরী ছিল, যার নাম ‘লেডি গিলেইন’। এ থেকেই বোঝা যায়, সবার ছোট হলেও গিলেইন তার বাবার কতটা আদরের ছিলেন।

গিলেইন পড়াশোনা করেছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই সময়টিতে তার বাবা দ্য ডেইলি নিউজ পত্রিকাটিও কিনে নিয়েছিলেন। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই একটি দুর্ঘটনায় রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের মৃত্যু ঘটে। মাথায় বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা নিয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর কিছু দিন পর রবার্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি তার কর্মচারীদের পেনশনও আত্মসাৎ করেছেন। ঋণের দায় মেটাতে গিয়ে পরিবারটির সব প্রকাশনা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। বিশাল সাম্রাজ্য ছেড়ে শহরের ছোট্ট একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে ওঠেন গিলেইন।

নিঃস্ব, অসহায় অবস্থায় নতুন জীবনের আশায় আমেরিকায় পা দেওয়ার পর অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম গিলেইনকে পুরনো আভিজাত্য ফিরিয়ে দেয়। যে আভিজাত্য তার রক্তের মধ্যেই মিশে ছিল। অ্যাপস্টেইনের সহযোগিতায় যে অভিজাত জীবন থেকে একসময় গিলেইন পা পিছলে গিয়েছিলেন সেখানে আবারও প্রত্যাবর্তন করেন।

অ্যাপস্টেইন সাম্রাজ্যের রানী

ফ্লোরিডার পাম বিচে থাকা অ্যাপস্টেইনের বাড়িটিতে দীর্ঘ এক দশক ধরে কর্মচারী ছিলেন জুয়ান অ্যালেসি। অ্যাপস্টেইনের সাম্রাজ্যে গিলেইনের আগমন সম্পর্কে জুয়ান বলেন, ‘একদিন তিনি পাম বিচের বাড়িটিতে এলেন এবং আমাকে বললেন, এখন থেকে এই বাড়িটির সব দায়দায়িত্ব আমার।’

 ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে পাম বিচের ওই বাড়িটিতে টানা বসবাস করতে শুরু করেন গিলেইন। এ সময় সেখানে অনেক রথি-মহারথির আগমন ঘটতে শুরু করে। পাম বিচ অঞ্চল ছাড়াও ইউরোপ থেকে তরুণীদের নিয়ে আসা হতো এখানে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেভিড কপারফিল্ডের মতো বিখ্যাত মানুষেরাও সেখানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে পা রেখেছেন। জুয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু ছিলেন ওই বাড়িটির নিয়মিত অতিথি। বাড়িটিতে যত নামি-দামি মানুষের আগমন ঘটেছে, তাদের সবাই ছিলেন গিলেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার হাত ধরেই বিখ্যাত মানুষদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ হয় অ্যাপস্টেইনের। তবে, দর্শনার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাপস্টেইন ছিলেন নাক-উঁচু স্বভাবের। দেখা যেত, অতিথিরা আসন গ্রহণের পর সেখানে সবার শেষে গিয়ে হাজির হতেন তিনি।

পাম বিচের বাড়িটিতে সবসময় সুশ্রী তরুণী ও উঠতি মডেলদের সমাবেশ ঘটাতে চাইতেন অ্যাপস্টেইন। আর চাইতেন এসব নারী যেন তার বিলাসবহুল বাড়িতে অবস্থান করে ও ব্যক্তিগত জেট বিমানে ভ্রমণ করে সব ভুলে যায়। তার বাড়িগুলোতে থাকত সুসজ্জিত ম্যাসেজ টেবিল। সুশ্রী নারীরা এসব টেবিলে অ্যাপস্টেইন ও গিলেইনসহ অন্য অতিথিদের শরীর মর্দন করে দিত। পাম বিচে থাকা বাড়িটির কর্মচারী জুয়ানের ভাষ্যমতে, ওই বাড়িটিতে কয়েক বছরের মধ্যে অন্তত ২০০ নামি-দামি ব্যক্তি শরীর মর্দন করাতে গিয়েছেন। দিনে অন্তত তিনবার শরীর মর্দন করাতেন অ্যাপস্টেইন। আর শরীর মর্দন করা ওই নারীদের সংগ্রহ ও নিয়োগ করতেন গিলেইন। নারী সংগ্রহের জন্য তিনি পাম বিচের স্পা সেন্টারগুলোতে ঘুরে বেড়াতেন।

শরীর মর্দন করাতে করাতে মাঝে মাঝে নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালাতেন অ্যাপস্টেইন। অন্তত দুজন নারী অভিযোগ করেছেন, অ্যাপস্টেইনের যৌন নিপীড়নে গিলেইন নিজেও অংশ নিয়েছেন। অ্যাপস্টেইনের বাড়িতে অবস্থান করে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স এন্ড্রুও যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরে তাকে রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 ২০০৯ সালে দায়ের করা অভিযোগে এক নারী উল্লেখ করেন, ১৬ বছর বয়সে তিনি অ্যাপস্টেইন ও গিলেইনের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। ওই সময়টিতে তিনি মার-এ-ল্যাগো ক্লাবে কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গিলেইন তাকে অ্যাপস্টেইনের বাড়িতে নিয়ে যান এই বলে যে, সেখানে তিনি ভালো করে শরীর মর্দনের কাজটি শিখে নিতে পারবেন এবং আয়ত্ত করতে পারবেন প্রচুর। পরে সেখানে যাওয়ার পর অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করেন গিলেইন। এই কাজের জন্য সেদিন তাকে ২০০ ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এ ধরনের সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন গিলেইন। তবে, অভিযোগ প্রমাণ হলে ৩৫ বছরের সাজা হতে পারে তার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত