স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহে জালিয়াতির অভিযোগ

জেএমআই চেয়ারম্যান ও তমার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ০৬:১২ এএম

করোনাকালে নিম্নমানের মাস্ক-পিপিইসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহের অভিযোগ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঁচ ঠিকাদারকে ‘অতীব জরুরি ভিত্তিতে তলব’-এর অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান দল। তারা হলেন মেসার্স জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রাজ্জাক ও তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সমন্বয়কারী (মেডিকেল টিম) মো. মতিউর রহমান। একই অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও অসুস্থ দাবি করে প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন এল্যান করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান/ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম আমিন। দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১ জুলাই অনুসন্ধান দলের প্রধান মীর মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত ‘অতীব জরুরি তলবি নোটিসে’ এই তিনজনসহ পাঁচজনকে দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়। অন্য দুজন মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান, লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর আজ বৃহস্পতিবার হাজির হওয়ার দিন নির্ধারিত রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান দলের এক কর্মকর্তা জানান, আবদুর রাজ্জাককে সাধারণ মাস্কের মোড়কে এন-৯৫ লেখা মাস্ক সরবরাহের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি দাবি করেন, তার কর্মচারীরা ভুল করে এন-৯৫ মাস্ক লেখা মোড়কে সাধারণ মাস্ক প্রবেশ করিয়েছিল। বিষয়টি ছিল অনিচ্ছাকৃত।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেএমআই চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক দুদক প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুদক আমাকে তলব করেছিল। আমি আমার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছি। দুদকে বিষয়টির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তাই এ বিষয়ে বেশি কিছু বলব না।’

দুদকের তদন্ত দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সমন্বয়কারী (মেডিকেল টিম) মো. মতিউর রহমানকে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) এন-৯৫ মাস্ক কম দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, তাদের মাস্ক বিমানবন্দরে চুরি হয়ে গেছে। তারা বিষয়টি জানতেন না। পরে বিষয়টি ধরা পড়ে।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিএমএসডি তাদের কাছে ৩ লাখ পিস এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করার কার্যাদেশ দেয়। তারা দুই দফায় চীন থেকে ৮৬ হাজার পিস মাস্ক এনে দেয়। এরপর ১০ জুন তৃতীয় দফায় ১ লাখ ৮০০ পিস মাস্ক আনা হয়। এই চালানেই মাস্ক কম হওয়ার বিষয়টি নজরে আনে সিএমএসডি। পরে জানা যায় বিমানবন্দরে তাদের কিছু মাস্ক চুরি হয়েছে।’ তিনি বলেন, তাদের আমদানি করা মাস্ক চুরির ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ঢাকা কাস্টম হাউজের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত। তাদের মধ্যে চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’ মতিউর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুদকের নোটিসে হাজির হয়ে আমাদের বক্তব্য দিয়েছি।’

তদন্ত দলের কর্মকর্তারা জানান, ‘ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম আমিন নিজেকে অসুস্থ দাবি করে একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে বক্তব্য পাঠিয়েছেন।’ তবে তার বক্তব্যের বিষয়বস্তু জানাতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল ৫০ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের কাজ পায় মেসার্স এল্যান করপোরেশন। তবে কাজ পাওয়ার আগেই পুরান ঢাকার হাজারীবাগে তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তি করেন আমিনুল। ১৩ মে মাস্কের সিই মার্কিং সনদ, ফ্রি সেল সার্টিফিকেট ও মাস্কের টেস্ট রিপোর্টসহ মাস্ক খালাসের জন্য আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৮ মে ঢাকা শুল্ক বিভাগ থেকে মাস্কগুলো খালাসের জন্য অনাপত্তিসূচক সনদও দেওয়া হয়। পরে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানতে পারে, অনাপত্তিপত্র নেওয়ার জন্য এল্যান করপোরেশন যেসব কাগজপত্র দেখিয়েছে তার সবই ভুয়া। ফ্রি সেল সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জাল করে প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি এল্যান করপোরেশন কেএন-৯৫ মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সনদও জাল করেছে। গত ২৭ মে মাস্ক আমদানির অনাপত্তিসূচক সনদ বাতিল করে ২৯ মে মামলা করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত