বুড়িগঙ্গায় যাত্রীবাহী লঞ্চ মর্নিং বার্ড ডুবিতে প্রাণহানির মামলায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হামিদ ছোয়াদকে (৩৩) গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে রাজধানীর সোবহানবাগ এলাকা থেকে তাকে আটক করে নৌপুলিশ। ছোয়াদ ময়ূর লঞ্চ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সী হর্স করপোরেশনের চেয়ারম্যান। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে ময়ূর-২ লঞ্চের সুপারভাইজার আবদুস সালামকে। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আদালতের এক সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) জানান, গতকাল দুপুরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছোয়াদকে হাজির করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিকা খান তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর কলাবাগানের সোবহানবাগ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ‘এমভি ময়ূর-২’ লঞ্চের মালিক ছোয়াদকে গ্রেপ্তার করে সদরঘাট নৌপুলিশের একটি দল। এছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার লঞ্চটির সুপারভাইজার আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় সালামের পক্ষের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
নৌপুলিশের সুপার (ঢাকা অঞ্চল) মো. ফরিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। মামলার বাকি পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তারা শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে।’
গত ২৯ জুন রাজধানীর সদরঘাটের কাছে শ্যামবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মুন্সীগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে আসা মর্নিং বার্ড নামে একটি ছোট লঞ্চ ডুবে কমপক্ষে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে সাতজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করে নৌপুলিশ। মামলার বাদী হয়েছেন নৌপুলিশের সদরঘাট থানার এসআই মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মোসাদ্দেক হামিদ ছোয়াদ (৩৩), লঞ্চের দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার মো. আবুল বাশার মোল্লা (৬৫), তৃতীয় শ্রেণির মাস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন (৫৪), ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার (৪৫), দ্বিতীয় শ্রেণির চালক শাকিল হোসেন (২৮), সুকানি নাসির মৃধা (৪০) ও মো হৃদয় (২৪)। এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও বেপরোয়াভাবে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া আসামিরা শত্রুতামূলক ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই প্রাণহানি ঘটিয়েছেন কিনা তার জন্য নিবিড় তদন্ত প্রয়োজন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মর্নিং বার্ড লঞ্চডুবির ঘটনায় ২০ দফা সুপারিশসহ গত সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য ময়ূর-২ লঞ্চের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে দায়ী করা হয়েছে।
