করোনার পর পৃথিবী কি ফিরবে আগের রূপে

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৮ এএম

করোনা সংক্রমণের আগে পৃথিবীকে কীভাবে কার্বনমুক্ত করে তোলা যায় তা নিয়ে আলোচনা হতো সর্বত্র। এখন মানুষ ঘরবন্দি থাকায় পৃথিবী নিজেই তার চিরচেনা চেহারায় ফিরে এসেছে। তবে জীবনযাপন যখন আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে তখন এই সবুজের অস্তিত্ব টিকবে তো? লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

পরিবেশ ও মহামারী

লকডাউন চলাকালীন বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনে নানা পরিবর্তন এসেছে। নিরাপদ থাকার চেষ্টায় অনেকের অভ্যাসে দেখা গেছে অভূতপূর্ব বদল। বিশেষজ্ঞদের মতে এই পরিবর্তন একটি বিশাল পরীক্ষার মতো। পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে লক্ষণীয় হচ্ছে, এক জায়গায় স্থির হয়ে টিকে থাকা। বিশেষ করে যারা মাঝেমধ্যে দূরে কোথাও ঘুরতে যেতেন তাদের বেলায় এ পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়। যাতায়াত, চলাফেরা কম হওয়ার কারণে কার্বন নিঃসরণ কমে গেছে অনেকাংশে। করোনাকালে বিশ্ব যে বদলে গেল তা আমরা সবাই দেখলাম, কিন্তু এই পরিবর্তন কীভাবে পরিবেশের প্রতি আমাদের ধারণা এবং আচরণকে বদলে দিল? সেন্ট পল এবং মিনেপলিসের সেন্ট থমাস ইউনিভার্সিটির সাইকোলজির প্রফেসর এলিস অ্যামেল বলেন, ‘অবাস্তব মনে হলেও সে ঘটনা যখন ঘটতে শুরু করে এবং কেন এই ঘটনা ঘটল তা মানুষ বুঝতে পারে, তখন তার আচরণে পরিবর্তন আসে। যখন আপনি বাড়িতে বসে সময় কাটাচ্ছেন, বাড়িতে বসে আছেন কারণ আপনার চাকরি নেই, তখনই বুঝবেন কতটুকু শক্তি আপনি ব্যয় করেছেন অথবা অপ্রয়োজনে কত খাবার আপনি নষ্ট করেছেন। এই চিন্তাই আপনাকে বাধা দেবে, ভাবতে শেখাবে, আচরণে পরিবর্তন আনবে।’ সাময়িক এই অবস্থাগুলো ভাইরাসের কারণে আমাদের দায়িত্বে একটা অস্থায়ী প্রভাব ফেলছে। আর এই প্রভাবের কারণে পৃথিবীকে নিয়ে আলাদা করে ভাবার সময় কারও নেই। এখন অবশ্য যেভাবে পৃথিবী চলছে, সেভাবেই যদি চলতে থাকে, তবে নতুন পরিবর্তনের সঙ্গেও একসময় আমরা মানিয়ে নিতে পারব। একে পরিবেশ সাইকোলজিস্টরা বলছেন ‘স্পিলওভার ইফেক্ট’ অর্থাৎ আপাতদৃষ্টিতে ঘটা কোনো ঘটনা যার পেছনে কোনো প্রাসঙ্গিক কারণ থাকে। ধরা যাক, কেউ একজন প্লাস্টিক রিসাইকেলের মাধ্যমে পৃথিবীকে সুরক্ষিত রাখার কথা ভাবছে, সেই ভাবনা থেকে অনেকের মধ্যে মাংস খাওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। কারণ প্রাণী হত্যার পর তার চামড়া থেকেও তৈরি হয় নানা জিনিস।

লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজে শহুরে জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে রিসার্চ করছেন জো হেল। পরিবেশ আর স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার আগে প্রো-এনভায়রনমেন্টাল বিহেভিয়ার নিয়ে তিনি জানান, ‘এই আচরণের ক্ষেত্রে কেউ যদি বিশ্বকে গড়তে ভালো কাজ করতে চায় তবে তার প্রতি ব্যক্তির নেতিবাচক চিন্তা কমে আসতে থাকবে। ঠিক একই রকম কথা খাটে প্রো-এনভায়রনমেন্টাল অ্যাক্টিভিটিজের বেলায়। এই কার্যক্রমে তারাই অন্তর্ভুক্ত হন যারা সুন্দর একটি পরিবেশের জন্য সময় এবং অর্থ খরচ করেন স্বেচ্ছায়। এখানেই একটি সমস্যা তৈরি হয়, যেটি শুরুতে অনেকেই বুঝে উঠতে পারে না। কয়েকজন মিলে যদি এই প্রো-এনভায়রনমেন্টাল অ্যাক্টিভিটিজের আওতায় এসে আলোচনায় বসেন, তবে তারা ধরেই নেন যেকোনো সময় স্বেচ্ছায় তারা পরিবেশের সুরক্ষা কাজ থেকে সরে যেতে পারবেন। কারণ এটা স্বেচ্ছায় করা কাজ। বেশিরভাগই ভাববেন, আমরা তো আমাদের কাজ করে ফেলেছি। আর যখন ভালো কোনো উদ্যোগ থেকে মানুষ এভাবে সরে যেতে থাকবে তখন সমস্যা আরও বেশি তৈরি হবে।’ এই লকডাউনে বেশিরভাগ মানুষই প্রকৃতির সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছেন। নতুনভাবে অনুভব করেছেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে প্রকৃতির প্রয়োজন কতটুকু। গুগল জানিয়েছে এই লকডাউনে পাখির ডাক, গাছের নাম জানা, কীভাবে গাছ বড় হয় এই সংক্রান্ত তথ্য গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি খোঁজা হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, প্রকৃতির প্রতি এই ভালোবাসা পরিবেশের প্রতি আমাদের মনোভাবকেও বদলে দেবে।

এক্সটার ইউনিভার্সিটির পরিবেশ মনোবিজ্ঞানী ম্যাথিউ হোয়াইট কভিড-১৯ এর সময় মানুষের মধ্যে প্রকৃতি এবং গাছ লাগানো, পাখি পালার মতো প্রো-এনভায়রনমেন্টাল আচরণ অনেক বেশি দেখতে পেয়েছেন। নিজের মধ্যে ভালো ব্যবহার স্থায়ী করার জন্য প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো জরুরি। তবে এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এখনো উঠে আসেনি। তবে এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রকৃতিতে সবুজের মধ্যে যত বেশি থাকা হবে তত ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। এই অনুভূতিকে আরেকটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যায়। আমরা যখন আকাশে ছায়াপথের দিকে তাকিয়ে থাকি অথবা বিশাল বটগাছের ছায়ায় দাঁড়াই, তখন নিজেকে জগতের অনেক ক্ষুদ্র একজন মনে হয়। অনুভূতিশূন্য হয়ে দেহ ভারমুক্ত লাগে। পরিবেশের সঙ্গে মিলে যাওয়ার বিষয়টি আসলে এমনই। এই অনুভূতিগুলোই পৃথিবী নামের এই গ্রহটার জন্য নতুন কিছু করতে আশা জাগায়। তবে প্রকৃতির সঙ্গে এই একাত্মতা এবং প্রো-এনভায়রনমেন্টাল বিহেভিয়ার আবার সত্যি হয় না, যখন আমরা ভ্রমণ করতে যাই। কভিড-১৯ হানা দেওয়ার আগে থেকেই বিষয়টি গবেষণা হচ্ছিল। তখন এক গবেষণায় উঠে আসে, আমরা যখন প্লেনে চেপে এক শহর থেকে অন্য শহরে বা সমুদ্রতীরে ভালো লাগা নিতে যাই, তখন কিন্তু এই আচরণের কোনো প্রভাব সেখানে থাকে না। বিষয়টি বেশিরভাগ সময় নিজ এলাকা বা শহরের জন্য কাজ করে।

আচরণ পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য আরও কিছু বিষয় আছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির প্রফেসর উইন্ডি উড একজন আচরণ বিশেষজ্ঞ। ভালো আচরণ নিয়ে তার একটি বইও আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকেই লকডাউনে নিউ দিল্লি থেকে লস এঞ্জেলস এসেছেন। তারা জানান, আকাশপথে যেমন বিমান কম ছিল, তেমন দূষণও অনেক কম হয়েছে সে সময়। এটা খুব স্বাভাবিক। তবে এমন দৃশ্য দেখে তারা অভ্যস্ত নয় বলে তাদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি কাজ করেছে। কারণ তারা নিয়মিত দূষণ, অসংখ্য মানুষ, নিয়মের অনিয়ম এসব দেখে অভ্যস্ত। বর্তমান পরিস্থিতি নিজ আয়ত্তে নেই বলে সবাই আবার এখনকার অবস্থা মেনে নিচ্ছে। তবে এটাও সাময়িক। যখনই মানুষের স্বাভাবিক কর্মময় জীবন শুরু হবে তখনই তারা পুরনো অভ্যাসে ফিরে আসবে। যেমন লাফ দিয়ে গাড়িতে ওঠা, জোরে গাড়ি চালানো, গাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া বের হলেও তা নিয়ে চিন্তা না করা ইত্যাদি। আসলে আমাদের পুরনো জীবন আগের জায়গাতেই আছে। বলা যায়, গাড়ি আটকে আছে এক জায়গায়। শুধু চলা শুরুর অপেক্ষা।’

তিন বছর আগে উইন্ডি উড মানুষের আচরণ নিয়ে একটি গবেষণা করেন। তিনি একদল মানুষের সঙ্গে শেয়ার করেন খাবারে ও পানীয়তে চিনি না খেলে কতটা সুস্থ থাকা যায়। নানা ধরনের তথ্য, অভিজ্ঞতা, ধারণা সব বলে তাদের বোঝানো হয়েছিল এই বিষয়ে। সব শুনে দ্রুত তারা এই সিদ্ধান্তে সমর্থন দেয়। সবাই নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করার কথা জানায়। ঠিক তার এক দিন পর উইন্ডি তাদের কোকাকোলা (চিনিযুক্ত) ও অরেঞ্জ জুস অফার করেন। সেই দলের বেশিরভাগ মানুষই কোকাকোলা বেছে নেয়। এই গবেষণা থেকে উইন্ডি বুঝতে পারেন, যখন বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থা আসে, তখন মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে গাড়ি কেনা, কোনো পানীয় পছন্দ করা, অভ্যাসের ভিত্তিতে কোনো কাজ করা ইত্যাদি যেকোনো বিষয়েই এই পরিবর্তন হতে পারে।

সংকট নিয়ে ভাবনা

মহামারীতে পরিবেশ সংকট নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যেকোনো মানুষ এবং দলীয় নেতাকে কি এই মহামারী পরিবেশ সংকট বোঝাতে পেরেছে? এই প্রশ্নের উত্তরে মেলবোর্নের প্রধান মেয়র স্যালি ক্যাপ বলেন, ‘এই বিপদ কত বেশি হতে পারে সেটি ভেবে আমি ভীষণ আতঙ্কিত ছিলাম। কারণ মহামারীর আগে থেকেই পরিবেশ নিয়ে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে আমাকে। আমি আমার মূল্যবোধ সম্পর্কে আরও ভালো করে বুঝতে পেরেছি, মানবতাকে প্রাধান্য দিয়েছি, পরিবেশ রক্ষায় আমার কর্তব্য সম্পর্কে আরও সচেতন হয়েছি।’ অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহরের এই নেতা বিশ্বাস করেন, কভিড-১৯ তাকে একজন ব্যক্তি এবং মেয়র হিসেবে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কী তা স্পষ্ট করতে সহায়তা করেছে। মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক যে কঠিন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা শুধু অর্থ সংকট বাড়িয়েছে তা নয়, আশঙ্কাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে মানসিক অবসাদ। এমন দুরবস্থা, এত মানসিক শঙ্কা এর আগে খুব কমই দেখা গেছে। অস্তিত্বের যে সংকট তৈরি হয়েছে তা শহর, গ্রাম এমনকি দলীয় নেতাদের পর্যন্ত নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে পরিবেশ বাঁচাতে ক্যাপ নতুন নতুন অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেটা সবচেয়ে জরুরি তার ওপর তিনি গুরুত্ব বেশি দিয়েছেন। কভিড-১৯ পরবর্তী সময়েও এই ধারাটুকু বজায় থাকবে এমনটি আশা করছেন তিনি।  জলবায়ু সংকট চলছিল আগে থেকেই। মহামারী শুরু হলে জলবায়ুও পরিবর্তিত হয়। এই সময় কিছু দেশের সরকার মিলে করোনার পরে যেন পরিবেশ ভালো থাকে সেই লক্ষ্যে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে লো-কার্বন ইন্ডাস্ট্রি তৈরির কথা ভাবে। তাদের সেøাগান ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’ অর্থাৎ ‘আরও উন্নতি’। এই এগিয়ে আসাটাকেই অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। পরিবেশের উন্নতির কথা ভাবলেও বদল আসছে মানুষের ব্যবহারে। তবে ব্যক্তি হিসেবে আমাদের উদ্দেশ্যগুলো ভালো। কারণ উদ্দেশ্য ভালো হলে পরিবেশকে পরিবর্তন করতে শিল্প খাতে, জাতীয় পর্যায়ে এবং স্থানীয় পরিমণ্ডলে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে মানুষের চিন্তাতেও পরিবর্তন আসবে, ভালো চিন্তা থেকেই আরও ভালো কাজ আসবে।

পরিবেশ বাঁচানোর সংগ্রাম

উইন্ডি বিশ্বাস করেন, মহামারীতে প্রতিদিনের জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে সেটি ধরে রাখতে পারলে জীবনযাত্রা আরও উন্নত হবে। তবে এটি সম্ভব যদি নেতারা চারপাশ পরিবর্তনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেন তবেই। নইলে সব পুরনো আবার ফিরে আসবে নতুন করে। লস এঞ্জেলস মেট্রোর পরামর্শক বোর্ডে কাজ করেছেন উইন্ডি। তার দায়িত্ব ছিল মানুষকে নিজ গাড়ির প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে পাবলিক বাহন ব্যবহারে অভ্যাস করানো। যদিও এ মুহূর্তে জনবহুল বাহন সুরক্ষিত নয়। তার মতে, এখন জনসাধারণের জন্য স্কুটার, সাইকেল এবং পথচারীদের জন্য আলাদা রাস্তা করে দেওয়া উচিত। তবে এখন পর্যন্ত লস এঞ্জেলসের সমুদ্রের ধারে মাত্র ২০ মাইল রাস্তা জুড়ে এভাবে চলাচলের অনুমতি মিলেছে। গবেষণা মতে, শহর ও পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে নিজে অপ্রিয় হবেন জেনেও অনেক রাজনীতিবিদ চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। যেমন প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারে জরিমানা নেওয়া, যানজটে চার্জ যুক্ত করা ইত্যাদি। এসবই করা হয়েছে যেন লোকেরা তাদের শহরকে সুন্দর দেখতে পায় এবং এই নিয়মের গুরুত্ব বুঝতে পারে। তবে এ বিষয়ে হেলের মতামত একটু আলাদা। তার মতে, এই লকডাউনে পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুধু সরকারের দায়িত্ব পালনই ইতিবাচক নয়। কভিড-১৯ এর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। যেমন ইতিমধ্যে টুইটার আজীবনের জন্য তাদের সব কর্মচারীকে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানিকে পরামর্শ দেওয়া গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্সি কোম্পানি ম্যাককিনসে জানিয়েছে, কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইতিমধ্যে কাজ ছাড়া বাইরে বের হওয়ার বিষয়টিকেও তারা নিরুৎসাহিত করেছে। পরিবেশ যেন সবুজ থাকে সেজন্য আমেরিকার বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি সরকারকে চিঠি দিয়েছে। এই করপোরেট হাউজগুলো এবং সরকারের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম একটি সম্পর্ক আছে। তারা চাইলে পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করতে পারে।

কী বলছেন নেতারা

পৃথিবী এবং মনুষ্যসৃষ্ট এই জলবায়ু পরিবর্তনে রাজনৈতিক নেতারা কতটুকু দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত? এই চ্যালেঞ্জটির বিষয়ে বলতে হয়, এটি আসলে ঠিক তখনই প্রাসঙ্গিক যখন বৃহৎ আকারের এই বেকারত্বের সময়ে রাজনীতিবিদরা অর্থনৈতিক দুর্দশা দেখছেন। আবার একই সঙ্গে, যখন মানুষ জানে জনবহুল যানবাহনে ওঠা এখন নিরাপদ নয়, তাই জনগণকেও নিজেদের গাড়ি নির্দ্বিধায় চালানোর অনুমতি দিতে হচ্ছে নেতাদের। এপ্রিল মাসে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দেশটি লকডাউনের মাঝামাঝি একসময়ে বলেছিলেন, ‘আমরা করতে পারি বলেই নতুন কিছু উদ্ভাবনের মুখোমুখি আমাদের হতে হয়। জীবন বাঁচাতে অর্ধেক বিশ্ব আমরা বন্ধ রেখেছি। এমন নজির ইতিহাসে নেই। মানুষ বুঝতে পেরেছে জীবন বাঁচানোর বিষয়টি খুব গভীর, একে নৃশংস করতে কেউ পছন্দ করে না। ঠিক একই কথা বলব জলবায়ুর বেলায়।’ তবে এই বক্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল ম্যাক্রোঁর নিজ দলেরই পরিবেশবিদদের কাছে।  পরিবেশ সংক্রান্ত এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে বিভিন্ন শহরে, দেশজুড়ে নয়। সি৪০ নামের একটি নেটওয়ার্ক যারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মেগাসিটিগুলোতে কাজ করছে সেই দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্ক ওয়াটস। কভিড-১৯ শুরু হলে বড় বড় শহরের মেয়রদের সঙ্গে তিনি সাপ্তাহিক আলোচনা করেন। তিনি বলেছিলেন, মেয়ররা এই সময়টিকে অনেক বড় একটি পরিবর্তনের শুরু বলছেন। এই মহামারীতে তাদের শহরে নিজ ঘরে, হাসপাতালে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, জনগণ তাদের ওপর থেকে আস্থা হারায়নি। তাই এ সময়ে তারা আরও শক্ত মনের অধিকারী হয়েছেন। পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে হয়েছেন আরও সচেতন। এই সচেতনতাই হয়ত পৃথিবীকে সবুজ রাখতে সহায়তা করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত