প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবায় ‘হোম সার্ভিস’

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ০৭:২৬ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা এবং পড়াশোনা করাচ্ছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুল লার্ন অ্যান্ড লিভ ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। এতে ওই শিশুদের পরিবার এই পরিবেশেও তাদের শিশুদের নিয়ে আশার আলো দেখছেন।

জানা যায়, মির্জাপুরের রশিদ দেওহাটা গ্রামের লন্ডনপ্রবাসী স্কুলশিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন জেসীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য মির্জাপুরের সাহাপাড়া বাবুবাজারে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৬০ প্রতিবন্ধী শিশুকে এই স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের শিক্ষার কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন পাঁচজন শিক্ষক। এ ছাড়া ফিজিও থ্যারাপিস্ট, গানের শিক্ষক, হস্তশিল্প, ধর্মীয় ও চারুকলার শিক্ষকও এখানে যুক্ত রয়েছেন।

সপ্তাহে ছয় দিন শিশুদের মায়েরা এখানে নিয়ে আসেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত তাদের পড়ানো এবং দুপুরের খাবার দিয়ে ছুটি দেওয়া হয়। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের সব ব্যয়ভার প্রতিষ্ঠানটি বহন করে থাকে। এতে আর্থিক সহায়তা দেন উদ্যোক্তা ও তার পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিষ্ঠানটির ফেইসবুক বন্ধুরা।

দেশে করোনা-সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো লার্ন অ্যান্ড লিভ ফাউন্ডেশনও বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক অসহায় দরিদ্র পরিবারের প্রতিবন্ধী শিশুরা লেখাপড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এ ছাড়া তাদের মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

তাই করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি শেষে যানবাহন চলতে শুরু করলে জুন মাস থেকে প্রতিবন্ধী শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা এবং লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হয়। এই কাজ প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত শিক্ষক যারা রয়েছেন, তারাই করছেন।

উপজেলার বহুরিয়া গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশু লোকমানের মা লাইলী বেগম বলেন, স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। স্যার-ম্যাডামরা বাড়িতে এসে ছেলের লেখাপড়াসহ স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক শিখা বণিক, মাবিয়া আক্তার বলেন, কষ্ট স্বীকার করে হলেও প্রতিবন্ধী শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবাসহ লেখাপড়ার উন্নতির জন্য কাজ করছি।

ফরিদা ইয়াসমিন জেসী বলেন, করোনা পরিস্থিতির এই কঠিন সময়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কিছু করতে পারছি বলে স্বস্তি পাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত