দুদিন সীমাহীন ভোগান্তি শেষে ইতালি থেকে দেশে ফিরতে হয়েছে ১৫১ জনকে। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে আশকোনার হজক্যাম্পের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাদের কয়েকজনকে বিলাপ করতে দেখা যায়। কয়েকজন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘করোনা না থাকলেও কেন কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে। আমাদের কী অপরাধ? সুস্থ থাকাটাও কি অপরাধ?’
বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩৪ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে কাতার এয়ারওয়েজের কিউআর-৬৩৮ ফ্লাইট। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফ্লাইটটি কাতারের দোহা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। ওই ফ্লাইটে ৩ শতাধিক যাত্রী দেশে ফিরেছেন। সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়নি। শুধু ইতালি ঢুকতে না পারা ১৪৭ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনা ছিল। সেই অনুযায়ী তাদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বাকি যাত্রীদের স্ক্রিনিং করে হোম কোয়ারেন্টাইনে যেতে বলা হয়েছে।
এ-সম্পর্কে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এইচ এম তৌহিদ উল আহসান জানান, ইতালি থেকে ফেরত আসা ১৪৭ বাংলাদেশির নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে হজক্যাম্পে পাঠিয়েছে।
আশকোনা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক স্ক্যানিং শেষে ফেরত আসা কোনো যাত্রীর মধ্যে করোনাভাইরাসের কোনো ধরনের উপসর্গ পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পে যাওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্যাম্পে থাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা হবে যে, ফেরত আসা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করা হবে কি না।
৭ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়া বেশ কজন যাত্রীর শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক নোটামে (নোটিস টু এয়ারম্যান) বলেছে, বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীরা আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইতালিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহায় ট্রানজিট হয়ে রোমে যাওয়ার পর একটি ফ্লাইটে ১৪৭ বাংলাদেশি যাত্রীকে ইতালিতে প্রবেশ করতে দেয়নি।
