আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইতিহাসবিদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ বি এম হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
তার মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, গতরাতে প্রবীণ এই অধ্যাপক মারা যান। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন বলে জেনেছি।
অধ্যাপক এ বি এম হোসেনের পুরো নাম আবুল বাশার মোশারফ হোসেন। ১৯৩৪ সালে তিনি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৭২ সালে অধ্যাপক পদে উত্তীর্ণ হন।
পরবর্তী সময়ে তিনি বিভাগীয় প্রধান, কলা অনুষদের ডিন ও প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে তার মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এক শোক বার্তায় উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশ-বিদেশে ইতিহাস শিক্ষা ও গবেষণায় মরহুমের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স¥রণ করে তার মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, তার মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক প-িত শিক্ষক ও গবেষক এবং জাতি তার এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারাল। উপাচার্য মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ বছর অধ্যাপনাকালে তিনি বিভাগীয় প্রধান ও সভাপতি ও কলা অনুষদের অধিকর্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি প্রথম ইমেরিটাস প্রফেসর ছিলেন (২০০০- মৃত্যু অবধি)। তিনি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পিএইচ.ডি, এম.ফিল ও ¯œাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণা তত্ত্ব¡াবধান করেন। ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামিক শিল্পকলা ও স্থাপত্য, প্রতœতত্ত্ব ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশ-বিদেশে তার প্রায় ১১টি গ্রন্থ ও শতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন।
প্রসঙ্গত, এ বি এম হোসেন ২০০১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ইতিহাস বিষয়ে তার ১১টি গ্রন্থ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নিয়ে তিনি অসংখ্য গবেষণা করেছেন। ১৯৭৭ সালে নরওয়েজিয়ান পার্লামেন্ট নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য গঠিত বোর্ডে ড. এ বি এম হোসেনকে সদস্য মনোনীত করে। তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি ও বাংলা একাডেমির সম্মানিত আজীবন ফেলো।
