কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি প্রবাহিত হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
গত এক সপ্তাহ আগে হয়ে যাওয়া বন্যায় খাদ্যের মজুদ ও সঞ্চিত টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় এসব মানুষ এখন চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন। কাউনের চাল, চিড়া ও চরে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়াই এখন বানভাসী মানুষের বাঁচার অবলম্বন হয়ে উঠেছে। সাথে আছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম জানায়, রবিবার বিকাল তিনটায় ধরলা নদী কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে ২ সেন্টি মিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদী নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। ব্রহ্মপুত্র চর বিচ্ছিন উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, তার এলাকায় বন্যাকবলিত মানুষজন খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকটে রয়েছেন। গত দুই দিনে তার এলাকার বালাডোবা, সরকার পাড়া, খুদিরকুঠি, শেখ পালানু মৌজা, মশালের চর ও আমিনবাজার এলকার ৮৭টি বাড়ি নদীতে বিলিন হয়েছে। গত বন্যায় ৩শ’ প্যাকেট শুনা খাবার পেয়েছিলেন। এবার এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পাননি।
একই উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের অর্জুন গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল জলিল, রবুল হোসেন, আবুল প্রামাণিক, ও কছর উদ্দিনের আজ সকালে তিস্তা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে।
এছাড়াও তিস্তার ভাঙ্গনে হুমকির মুখে রয়েছে, দলদরিয়া ইউনিয়নের উত্তর পাড়া, অর্জুন, শেখের খামার, রাজ নগর,নালারচর হাসানীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও থেতরাই উনিয়নের থেতরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫০ টি বাড়ি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা জানান, ঈদকে সামনে রেখে ৪ লাখ সাড়ে ২৮ হাজার পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে ভিজিএফ’র চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৯০ মেট্রিটন চাল, ১২ লাখ টাকা মজুদ আছে। এর মধ্যে ২ লাখ শিশু খাদ্য ও ২ লাখ টাকা পশুখাদ্যের জন্য বরাদ্দ আছে। এগুলো বন্যা কবলিতদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
