সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা

অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ পাবে আসামিরা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ০৭:০৬ এএম

এখন থেকে স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন। গত শনিবার রাতে এ সংক্রান্ত প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর। নির্দেশিকায় তিনি জানান, এ বিষয়ে অধস্তন আদালতের বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সাড়ে তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে উচ্চ ও অধস্তন আদালতের নিয়মিত বিচার কার্যক্রম। তবে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে অধস্তন আদালতে হাজতি আসামির জামিনের শুনানিসহ সীমিত আকারে মামলার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিনসহ স্বল্প পরিসরে মামলার শুনানি ও আদেশ হচ্ছে। কিন্তু অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ না থাকায় ফৌজদারি মামলার অসংখ্য আসামি পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। এর আগে গত ৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক

নির্দেশিকায় জানায়, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা আত্মসমর্পণ করতে পারবেন। তবে এজন্য আদালতে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে।  

শনিবারের নির্দেশিকায় বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট আত্মসমর্পণ আবেদন দাখিল এবং শুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি-সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ-সমন্বয় করতে হবে যাতে আদালত প্রাঙ্গণে ও আদালত ভবনে কোনোরূপ জনসমাগম না ঘটে। আদালত প্রাঙ্গণ ও এজলাস কক্ষে প্রত্যেককে অন্তত ৬ ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। জনসমাগম এড়াতে বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক আত্মসমর্পণের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন। একটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে সর্বোচ্চ দুজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। এজলাস কক্ষে একত্রে ছয়জনের অধিক লোকসমাগম করা যাবে না। তবে একই মামলায় একাধিক আত্মসমর্পণকারী অভিযুক্ত ব্যক্তি থাকলে এজলাস কক্ষের ডকে সর্বোচ্চ পাঁচজন অভিযুক্ত ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এ রকম মামলা একাধিক ভাগে/সেশনে শুনানি করতে পারবেন এবং আদেশ দেবেন।

নারী শিশু ট্রাইব্যুনাল ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি আবেদন গ্রহণের নির্দেশ : করোনা পরিস্থিতিতে সাড়ে তিন মাস আদালতের নিয়মিত বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর এখন থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করা যাবে। গত  শনিবার রাতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।

এতে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচারক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট আদালত নালিশি দরখাস্ত দাখিল পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, আদালতে নালিশি দরখাস্ত দাখিল এবং অভিযোগকারীপক্ষের  পরীক্ষান্তে জবানবন্দি গ্রহণের পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করবেন যাতে আদালত প্রাঙ্গণ ও ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ জনসমাগম না ঘটে। এছাড়া আদালত প্রাঙ্গণ ও এজলাস কক্ষে প্রত্যেককে কমপক্ষে ৬ ফুট শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসমাগম এড়াতে প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক নালিশি দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তার অধীনস্থ ম্যাজিস্ট্রেটগণের আঞ্চলিক এখতিয়ার নির্ধারণ করে নালিশি দরখাস্ত গ্রহণ ও শুনানির ব্যবস্থা করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত