ডিজির অনুরোধে রিজেন্টের অনুষ্ঠানে ছিলাম : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ০৬:৪২ এএম

রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের অনুরোধে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অন্যদিকে রিজেন্ট ও জেকেজি ইস্যুতে গত কয়েক দিন ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চললেও মন্ত্রী দাবি করেছেন, অধিদপ্তরের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো ‘সমস্যা’ নেই। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এমন দাবি করেন।

করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য গত ২১ মার্চ রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তি হয়। ওই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। পরে র‌্যাবের অভিযানে হাসপাতালটিতে করোনার ভুয়া সনদ দেওয়া, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও লাইসেন্স না থাকাসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। লাইসেন্সবিহীন রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করা নিয়ে সমালোচনার মুখে গত ১১ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের’ নির্দেশে ওই চুক্তি করা হয়েছিল। পরদিন মন্ত্রণালয় থেকে অধিদপ্তরকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, ‘ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ’ বলতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাকে বুঝিয়েছে, সে বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এ বিষয়ে গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ডিজি অফিসে একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ছিল। সেখানে সচিবরাসহ অন্য বক্তিরাও ছিল। ওখানে ডিজির অনুরোধ, আপনারাও একটু থাকেন চুক্তি স্বাক্ষর হবে। কী স্বাক্ষর হবে রিজেন্টের সঙ্গে স্বাক্ষর হবে। তো আমরাও সেখানে ছিলাম। আমরাও খুশি ছিলাম যে, একটা নতুন হাসপাতাল এলো করোনার চিকিৎসা দেবে। প্রাইভেট (বেসরকারি হাসপাতাল) তো তখন করোনার চিকিৎসা দিতে দ্বিধা করছিল।’

রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তিতে মন্ত্রণালয় কোনো নির্দেশনা দেয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালকে নিয়োগ দেওয়ার কাজ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রক্রিয়া মেনে তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় কোনো নির্দেশনা দিলে তো ফাইলেই থাকত। সেটার ব্যাখ্যা (ডিজির ব্যাখ্যা) দিলেই তো পাবেন। আমরা অপেক্ষা করি, দেখি কী ব্যাখ্যা দেয়।’

তিনি বলেন, ‘জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটুকু হয়েছে, তা সরকার খতিয়ে দেখছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের কঠোর বিচার করতে হবে এবং তাদের প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জেকেজি ও রিজেন্ট ইস্যুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে দূরত্ব অনেকটাই স্পষ্ট। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও গতকাল এ প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে বলেছেন। সমন্বয়হীনতা নিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো সমস্যা নেই, এটি সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে মন্ত্রণালয় প্রশাসনিকভাবে কোনো কাজের ব্যাখ্যা চাইতেই পারে, এটি সরকারি কাজের একটি অংশ। মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর দুটিই সরকারের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত