হতাশ লাগে যখন দেখি গানের স্বত্বই আমাদের নেই

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২০, ০৭:০৬ এএম

ক্লোজআপ তারকা সাজিয়া সুলতানা পুতুল ঘরবন্দি সময়টা সৃষ্টিশীল নানা কাজে লাগাচ্ছেন। লিখতে শুরু করেছেন আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ

ঘরে থেকেই ব্যস্ততা...

প্রায় চার মাস হয়ে গেল ঘরেই আছি। আমার মনেও হচ্ছে না, সহসা এই অবস্থার কোনো উন্নতি হবে। আমাদের আরও অনেক দিন আসলে ঘরেই থাকতে হবে। তাই আমি সময়টাকে ঘরে বসেই কীভাবে কাজে লাগানো যায় সে কাজ করছি। নানা ধরনের সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখছি। অনেকেই জানেন, আমার বেশিরভাগ গানের কথা, সুর ও সংগীত আমি নিজেই করি। এই সময়ে অনেকগুলো গান লিখেছি, সুর করেছি, সংগীত নিয়েও ভেবেছি। কিন্তু কবে নাগাদ রেকর্ড করতে পারব জানি না। কারণ, আমার ঘরে স্টুডিওর ব্যবস্থা নেই। পরিবেশটা একটু স্বাভাবিক হলে গানগুলোতে ভয়েস দেব। এ ছাড়া নিয়মিত লেখালেখি করছি। একটা বৃহৎ কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাচ্ছিলাম। সেই ভাবনা থেকেই আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস লেখার কাজ শুরু করেছি।

আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস...

আসলে লকডাউনের এই দীর্ঘ অবসর না পেলে হয়তো এখনই আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস লেখার কথা মাথায় আসত না। হয়তো বয়সের দিক দিয়ে আরও পরিণত হলে লিখতে শুরু করতাম। কিন্তু লিখতে বসে আমি অবাক হয়েছি। জীবন বেশিদিনের নয়, কিন্তু শিল্পী হিসেবে আমাদের জীবন এত বর্ণিল, এত চড়াই-উতরাই, এত বৈচিত্র্যময় যে আমি জানি না শেষ পর্যন্ত এর কাজ কবে শেষ করতে পারব। মনে হচ্ছে একাধিক খ-ে এটি প্রকাশ করতে হবে। ডিসেম্বর পর্যন্ত যতদূর লিখতে পারি তা নিয়েই হয়তো আগামী বইমেলায় পাঠকের সামনে হাজির হব। কিন্তু সেটিও কলেবরগত দিক থেকে বেশ বড় হবে বলেই আমার মনে হচ্ছে। এতে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তো থাকবেই, কিন্তু এমন কিছু ঘটনা আছে যা হয়তো একভাবে শেষ হয়েছে, কিন্তু অন্যভাবে হতে পারত। সেই অন্যভাবেই আমি প্রকাশ করব। এটি যেহেতু সরাসরি আত্মজীবনী নয়, আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস, তাই এই পরিমার্জন বা সংযোজনের অধিকার আমার আছে।

ঈদে...

প্রতিদিন কোনো না কোনো টিভি চ্যানেলের পক্ষ থেকে ঈদের জন্য অনুষ্ঠানের প্রস্তাব পাচ্ছি। কিন্তু আমি এখনই ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছি না। কারণ, টিভিতে একটা ইউনিটের সঙ্গে কাজ করতে হয়। সবাই কতটা সচেতন তা তো আমি জানি না। এজন্য এক ধরনের মানসিক চাপ থেকে যায়। আর মানসিক চাপ থাকলে কাজ ভালোও হয় না।

গানের রয়েলিটি...

গত কয়েক বছর ধরে বইমেলায় আমার বই প্রকাশিত হচ্ছে। বই প্রকাশের এক মাসের মধ্যেই আমি বইয়ের রয়েলিটি হাতে পাই। কিন্তু গানের জগতে গত ১৫ বছর কাজ করছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো রয়েলিটি পাইনি। এটি শিল্পী হিসেবে খুব একটা আক্ষেপের জায়গা। সবচেয়ে হতাশ লাগে যখন দেখি গানের স্বত্বই আমাদের নেই। তাই এখন থেকে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে গান প্রকাশ করছি। অন্তত ভবিষ্যতে যাতে নিজের গানের মালিকানা আমারই থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত