ঝালকাঠিতে ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও মামলার আসামি দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটায় জেলার রাজাপুর উপজেলার ঝালকাঠি ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গালুয়া পাকাপুল এলাকায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও আসামি জামাল হোসেন এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। প্রায় রাতে আসামি জামাল বাড়িতে থাকলেও বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। ধর্ষক জামালকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার করে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক যাতে ভবিষ্যতে আর কোন মা-বোনকে ধর্ষণের শিকার হতে না হয়।
বক্তরা আরো বলেন, ধর্ষণকারী প্রভাবশালী হওয়ায় টাকার জোরে আসামি এখনও পুলিশের হাতে অধরা রয়েছে।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য সামিরা আক্তার, সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন, বাপ্পি মিয়া প্রমুখ। এছাড়াও এ সময় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাজাপুর উপজেলার চাড়াখালী এম এল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে তিন সন্তানের জনক প্রতিবেশী পঞ্চাশোর্ধ জামাল তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে না থাকলেই কয়েকমাস ধরে প্রায়ই ধর্ষণ করে আসছিল। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কিশোরীর পরিবারও বিষয়টি জানতে পারে। পরে কিশোরীর কাছ থেকে তার পরিবার ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গত রবিবার রাতে কিশোরীর বড় বোন বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় ধর্ষক জামালকে আসামি করে একটি মামলা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়লেও স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বুদ্ধি কম। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে প্রতিবেশী জামাল।
রাজাপুর -কাঠালিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হােসেন বলেন, মামলা হবার পরেই ঐ দিন রাত থেকেই আসামি জামালকে গ্রেপ্তারের জন্য অমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশাকরছি শিগগিরই ধর্ষক জামালকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।
