৮ হাজার কাপ ভালোবাসা!

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৫ এএম

১৯৯৫ সাল। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা যুদ্ধ তখন তুমুলে। যুদ্ধের ভয়াবহতা কমাতে জাতিসংঘ সেব্রেনিকা অঞ্চলকে মুসলমানদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল বলে ঘোষণা করেছে। নিয়োজিত করা হয়েছিল শান্তিরক্ষী বাহিনীও। জাতিসংঘের মিশনে নেদারল্যান্ডসের অসংখ্য সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন সেখানে। কিন্তু ভুল করে বসে ডাচ শান্তিরক্ষী বাহিনী। নিরাপত্তা বেষ্টনী থেকে বসনিয়ার মুসলমানদের ছেড়ে দেয় তারা।

সেই সুযোগে ‘বৃহত্তর সার্বিয়া’ প্রতিষ্ঠার ‘উদ্দেশ্যে’ প্রায় ৮ হাজার মুসলমান পুরুষ, যুবক ও বালককে ধরে নিয়ে হত্যা করে বসনিয়ার সার্ব নেতা রাদোভান কারাদজিচ ও সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোভোদান মিলোসেভিচের দোসর কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচের বাহিনী। ওই বছরের ১১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী ১১ দিন ধরে চলে ওই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। নারকীয় এই হত্যাযজ্ঞের বিভীষিকায় স্তম্ভিত হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ববাসী।

গত ১০ জুলাই নারকীয় সেই হত্যাযজ্ঞের ২৫ বছর উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বিশেষ ধরনের প্রদর্শনীর। প্রটোকারি- সেব্রেনিকা স্মৃতি সেন্টারে একসঙ্গে জড়ো করা হয় ৮ হাজার সার্বিয়ান কফির কাপ। প্রত্যেকটি কাপই পূর্ণ করা হয় কফিতে। 

প্রদর্শনীটির শিল্পী আইডা সেচোভিক জানান, এই প্রদর্শনীর আগে তিনি গণহত্যায় স্বজন হারানোদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বেশিরভাগকেই একটি প্রশ্ন তিনি করেন। আইডা তাদের কাছে জানতে চান, হারানো স্বজনের সঙ্গে কোন কাজটি তাদের প্রিয় ছিল?

জবাবে বেশিরভাগই জানান, এক  কাপ কফি পান করা। বিশেষ করে ওই গণহত্যার শিকার পুরুষ বা যুবকদের স্ত্রীরা সবাই বলেছেন, হারানো প্রিয়জনের সঙ্গে এক কাপ কফিকেই বেশি মিস করেন। তাই এবার সেই হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারানোদের স্মরণ করতে এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। 

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় গণহত্যা চালানোর দায়ে রাতকো মøাদিচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটিওয়াই)। আর কারাদজিচকে ২০১৬ সালে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আইসিটিওয়াই। অন্যদিকে মিলোসেভিচ ২০০৬ সালে বিচার চলাকালে জেলের মধ্যেই মারা যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত