রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ছোট ভাই মো. আবদুল হাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল শুক্রবার প্রথম প্রহরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা আবদুল হাইয়ের বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রয়াতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বড় ছেলে ও কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক তার চাচার মৃত্যুর খবরটি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল রবিবার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুরে জানাজ শেষে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। ওইদিন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ছোট ভাইয়ের জানাজা, দাফন ও দোয়ায় অংশ নেবেন।
রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক জানান, করোনার উপসর্গ দেখা দিলে গত ২ জুলাই তার চাচা আবদুল হাইয়ের নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং কভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট আসে। পরে গত ৫ জুলাই তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। গত ১২ জুলাই থেকে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান।
আবদুল হাই কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম হাজী তায়েব উদ্দিনের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে আবদুল হাই ছিলেন পঞ্চম। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ এবং রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দ্বিতীয়। সবার বড় আবদুল গনি ও তৃতীয় আব্দুর রাজ্জাক মারা গেছেন। রাষ্ট্রপতির একমাত্র ছোট বোন আছিয়া আলম বর্তমানে মিঠামইন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের বড়।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলে আবদুল হাই তার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে যোগ দেন। আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদের স্পিকার হলে তাকে আবারও সহকারী একান্ত সচিব করা হয়। পরে মো. আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হলে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইকে জাতীয় সংসদের উপপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখান থেকে অবসরে যাওয়ার পর আবদুল হাই রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান।
