করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদসহ বহুমাত্রিক জালিয়াতিতে আলোচিত সাহেদ করিমের সহযোগী রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে গাজীপুরে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কাপাসিয়া বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী চন্দন রক্ষিত বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলাটি করেন। মামলায় স্বর্ণালংকার নিয়ে পাঁচ লাখ টাকার ভুয়া চেক দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন তিনি।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে কাপাসিয়া থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বাদী চন্দন রক্ষিত কাপাসিয়া বাজারে ‘বর্ণালি জুয়েলারি’ নামে একটি দোকান দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি মাসুদ পারভেজ তার বিয়ের কথা বলে ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে নেকলেস, গলার হার, কানের ঝুমকা, হাতের বালা, কানটানা, টায়রা ও আংটিসহ সাড়ে ১৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকারের অর্ডার দেন। স্বর্ণালংকার, তাতে ব্যবহৃত পাথর ও মজুরিসহ মোট দাম হয় ৫ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ টাকা। একই বছরের ১ মার্চ আরও ১২ হাজার ৩০০ টাকা পরিশোধ করেন মাসুদ পারভেজ। সাত দিন পর বাকি পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। মাসুদ পারভেজ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের কাপাসিয়া শাখার কর্মকর্তা এবং পূর্বপরিচিত হওয়ায় বাকিতে স্বর্ণালংকার বিক্রি করেন চন্দন। পরবর্তী সময়ে টাকা চাইলে তাকে ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে ২০১৩ সালের ১২ মে মাসুদ পারভেজ তার দোকানে গিয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পাঁচ লাখ টাকার চেক দেন এবং এক মাস পর চেক জমা দিতে বলেন। তার কথামতো চন্দন চেকটি ব্যাংকে জমা দিতে চাইলে মাসুদ পারভেজ চেকটি জমা না দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং নগদে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন। পরে টাকা চাইলে মাসুদ পারভেজ টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন কথা বলে কালক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে চন্দন ওই চেক ব্যাংকে জমা দিলে ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ তাকে জানায়, চেক দেওয়ার তারিখের আগেই চেকের অ্যাকাউন্টটি ক্লোজ করা হয়েছে। সর্বশেষ তিনি ২০২০ সালের ১৯ জুন মাসুদ পারভেজের কাছে পাওনা পাঁচ লাখ টাকা চাইলে সময় চেয়ে তাকে ফিরিয়ে দেন।
রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ পারভেজকে গত মঙ্গলবার গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাকে গ্রেপ্তারের পর কাপাসিয়ায় তার প্রতারণার বিভিন্ন খবর বের হতে থাকে।
