রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি

স্বাস্থ্যের ডিজিসহ ডজন কর্মকর্তাকে তলব করবে দুদক

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২০, ০৬:৫৬ এএম

সনদবিহীন রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে কভিড-১৯ চিকিৎসা ও নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তাকে তলব করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন তলবি নোটিস পাঠানো হবে বলে কমিশনের অনুসন্ধান দলের একজন কর্মকর্তা গতকাল শনিবার রাতে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে করা সংশ্লিষ্ট চুক্তির নথিপত্রে ও সই-স্বাক্ষরে সম্পৃক্ততা থাকায় এই তালিকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা, হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক ডা. আমিনুল হাসান, একই বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. ইউনুস আলী ও সহকারী পরিচালক শফিউর রহমানসহ প্রায় এক ডজন কর্মকর্তাকে ডাকার জন্য তালিকা করা হয়েছে। তাদের কমিশন কয়েক ধাপে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এছাড়া সাক্ষী হিসেবে ডাকা হবে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক বায়োজিত খুরশিদ রিয়াজসহ কয়েকজনকে। এছাড়া কমিশন ভুয়া সনদ পাওয়া ভুক্তভোগীদেরও সাক্ষ্য নেবে।

এ বিষয়ে গতকাল রাতে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ টেলিফোনে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, ‘আমাদের মূল ফোকাসটা হবে এই অনুমতি দিতে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তি কীভাবে হলো, হাসপাতালটির সনদ ছিল কি ছিল না, জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না এসব বিষয়ে। নথিপত্রে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, অর্থাৎ যারা স্বাক্ষর করেছে, যারা অনুমতি দিয়েছে তাদের সবাইকে তলব করা হবে। আমাদের অনুসন্ধান টিম যাকে দরকার তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’

দুদকের পাওয়া নথিপত্রে জানা গেছে, রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদের প্রতারণা ও করোনা সনদ জালিয়াতির বিষয়টি জুনের প্রথম সপ্তাহেই নজরে আনে নিপসম। নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়োজিত খুরশিদ রিয়াজ বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে অবহিত করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ডিজি রিজেন্টের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে করোনা পরীক্ষার নামে রিজেন্ট হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ প্রতারণা অব্যাহত রাখে।

দুদকের পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১৪ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায় কমিশনের অনুসন্ধান দল। নথি তলব করা হয় যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের দপ্তর, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নিপসম, ঢাকা জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়, সাতক্ষীরা জেলাপ্রশাসনের কার্যালয়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের বিমানবন্দর শাখার ব্যবস্থাপক, জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং এনবিআরের কর অঞ্চল-৯ এর উপ-কর কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে।

সাহেদ ও তার সহযোগীদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে গত ১৩ জুলাই তিন সদস্যের দল গঠন করে দুদক। কমিশনের উপ-পরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে টিমের অপর দুই সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক মো. নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত