বিএনপি বগুড়া-১ ও যশোর-৬ উপনির্বাচনে অংশ না নিলেও পাবনা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো সময় আছে। করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে এই দুই আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তফসিল ঘোষণা করুক। এরপর করোনাভাইরাস ও বন্যা পরিস্থিতি দেখে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
দলের সিদ্ধান্ত যাই হোক এই দুই আসনের প্রার্থীরা মাঠে আছেন। এবং তারা নির্বাচনী এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। দল নির্বাচনে গেলে এবং মনোনয়ন দিলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। এছাড়া ঢাকা-১৮, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীরাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালু করবে বিএনপি। গত ২৬ মার্চ থেকে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে করোনাভাইরাসের কারণে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস ও বন্যা পরিস্থিতির বিষয় বিবেচনা করে আমরা যশোর-৬ ও বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচন বর্জন করেছি। এখন এই দুটি কারণ বিদ্যমান থাকলে সংসদের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো কারণ দেখছি না। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পাবনা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।
করোনাভাইরাস ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে গত ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত যশোর-৬ ও বগুড়া-১ উপনির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল বিএনপি। বিএনপির অনুরোধ ইসি প্রত্যাখ্যান করলে ওই দুই আসনের উপনির্বাচন বর্জন করে দলটি।
গত সোমবার বিকেলে ৬৬তম কমিশন বৈঠক শেষে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব মো. আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের দুই সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া পাবনা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল আগস্টের শেষ সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে। সে সময় অনুষ্ঠেয় কমিশন বৈঠকে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়েও আলোচনা হবে। তবে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের সিদ্ধান্ত আরও পরে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৩০ ডিসেম্বর ২০১৮তে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ^রদী ও আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব। গতকাল মঙ্গলবার হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দল নির্বাচনে গেলে এবং আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। নির্বাচনী এলাকা হিসেবে নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছি। করোনাকালে দুস্থ, অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করেছি। সব ধরনের প্রস্তুতি আমার রয়েছে।’
ঢাকা-৫ আসনে (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী। নবী সাবেক কমিশনার ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন বৃহত্তর ডেমরা থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা মারা যাওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকা- বাড়িয়ে দিয়েছেন। করোনাকালে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে পোস্টারও করেছেন। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ নির্বাচনী এলাকায় পোস্টারিং করা হয়েছে।
নবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটেছে। এজন্য সরকার রেড জোন ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় নির্বাচন করা কষ্টকর। তবে দল চাইলে এবং আমাকে প্রার্থী করা হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।
এদিকে ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দলের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। এস এম জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন। এখন যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ইসিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জাহাঙ্গীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলাকার সন্তান হিসেবে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের সমর্থন রয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর সুখেদুঃখে তাদের পাশে থাকছি। দলের কর্মসূচি স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পালন করছি। করোনাকালে দুস্থ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দল নির্বাচনে অংশ নিলে এবং আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা আছে।’
সিরাজগঞ্জ-১ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা। একই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা। এবার উপনির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক রানা। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘দল নির্বাচনে গেলে এবং আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার রয়েছে।’
সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে পাবনা-৪ ও হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে ঢাকা-৫ আসন শূন্য হয়। এছাড়া মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সিরাজগঞ্জ-১ আসন এবং সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৮ আসনেও সামনে উপনির্বাচন করতে হবে ইসিকে।
