নকল মাস্ক সরবরাহ

অপরাজিতার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএসএমএমইউ

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ০৪:৩৫ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নকল ‘এন৯৫’ মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের’ বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ^বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। মাস্ক নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দুই-এক দিনের মধ্যে মামলাটি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ^বিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা।  তারা বলেছেন, নকল মাস্ক সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। গত মঙ্গলবার তার দেওয়া জবাবে সন্তুষ্ট হতে না পেরে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তার (অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী) বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল কারণ দর্শানোর জবাবে কী বলেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি (প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহান) বলেছেন, চীনের যে কোম্পানি আছে তারাই হয়তো ভুলভ্রান্তি করেছে। সে জায়গায় তারা যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন।’

বিএসএমএমইউ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নকল ‘এন৯৫’ মাস্ক সরবরাহের তথ্য গত মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরের কাছে স্বীকার করে বিএসএমএমইউ কর্র্তৃপক্ষ। তারা জানায়, ‘অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল’ নামে দেশি একটি প্রতিষ্ঠান চীনের ‘থ্রিএম কোম্পানি’র লোগো বসিয়ে এসব মাস্ক সরবরাহ করে। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা মাস্ক সাপ্লাই দিয়েছে, তারা সেগুলো প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেয়। সরবরাহ করা মাস্ক ডিজি অফিস (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) কর্র্তৃক নির্ধারণ করা একটি প্রতিষ্ঠান থেকে টেস্ট করা হয়। তখন সেগুলোর মান ঠিক ছিল এবং এ ধরনের মাস্কই সরবরাহ করার কথা। পরে ৪ জুলাই থেকে মাস্ক সরবরাহ শুরু হয়। প্রতি লটে ৭৫০ করে মাস্ক দিতে থাকে। প্রথম লটে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। দ্বিতীয় লটেও কোনো ধরনের সমস্যা ছিল না। ১৮ জুলাই যখন তৃতীয় লটের মাস্ক ব্যবহার শুরু হলো, তখন দেখা গেল, এক গ্রুপের মাস্কে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু অন্য গ্রুপের মাস্কের মধ্যে কিছু মাস্ক নকল, ফেইক। পরে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।’ নকল মাস্ক কেন দেওয়া হলো, সে ব্যাপারে জানাতে অপরাজিতার স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহানকে শোকজ ও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে বিএসএমএমইউতে নকল মাস্ক সরবরাহের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক ও চিকিৎসকরা। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের গাফিলতিই দায়ী বলে মনে করছেন তারা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে সরবরাহ করা ‘এন৯৫’ মাস্ক এবং অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মাস্ক নিয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, প্যাকেটের গায়ে এন৯৫ লেখা থাকলেও নিম্নমানের মাস্ক ও পিপিই দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। কেবল মুগদা নয়, ঢাকার বাইরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল থেকেও নিম্নমানের মাস্ক নিয়ে অভিযোগ আসে। মুগদা হাসপাতালে দেওয়া নকল মাস্ক নিয়ে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে একে পরিকল্পিত প্রতারণা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) অনুসন্ধান করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত