প্রস্তুতিহীনতা বন্যার মতো বিষয়কে অস্বাভাবিক করে তুলেছে

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ০৬:৫০ এএম

পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাতের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৯ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলায়। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশল বিষয়ে বিএসসি এবং পানিসম্পদ প্রকৌশল বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮১ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর স্ট্রাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশল বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে। পরে তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালে তিনি পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং ১৯৮৫ সালে পূর্ণ অধ্যাপক হন। তিনি ২০১০ থেকে ’১৪ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু যমুনা সেতু নির্মাণকালে এর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পানি কাউন্সিল, ইন্দো-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ জাতীয় কৃষি কমিশন এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কাউন্সিলের সদস্য। দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি এবং ঢাকা মহানগরের জলাবদ্ধতা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সম্পাদকীয় বিভাগের অনিন্দ্য আরিফ

দেশ রূপান্তর : দেশে এখন ১৮টি জেলার প্রায় ২৮ লাখ লোক বন্যার কারণে পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এই বন্যা ১৯৮৮ সালের পর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। আপনার বিশ্লেষণ কী?

আইনুন নিশাত : জাতিসংঘের পন্ডিতরা বন্যা নিয়ে যে অনুমানগুলো করছেন, আমার ধারণায় তা অনেক কমই বলেছেন। বাংলাদেশকে জানতে হবে, বুঝতে হবে। আমি মনে করি, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ নিয়ে যে ধারণা রয়েছে, সেখানে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। আর তাদের সঙ্গে যদি কোনো দেশীয় বিশেষজ্ঞ থেকে থাকেন, তারাও কেতাবী বিদ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন। তারা হয়তো পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়েবসাইটে ঢুকে কিছু তথ্য-উপাত্ত দেখে এসব অনুমানের ভিত্তি তৈরি করছেন। প্রথমত, তারা বলছে বন্যা স্থায়ী হবে। আসলে বন্যা তো স্থায়ী নয়। সাধারণত জুন মাসের ১৫ তারিখের দিকে বন্যা আসে এবং ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলার তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়। এভাবে বন্যার পানি আসবে, নেমে যাবে, আবার আসবে এবং নেমে যাবে। তাই বন্যার স্থায়ীকাল কতটুকু, সেটা গুরুত্বপূর্ণ বটে। সিলেটের হাওরাঞ্চলে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পানি আসে, মে মাসে এলাকাটি পানিতে ভরে যায় এবং তা নামতে সেপ্টেম্বর, কখনো অক্টোবর মাস লেগে যায়। তাই বাংলাদেশের বন্যা বর্ণনা করতে গিয়ে কেউ যদি নির্দিষ্ট সংখ্যা ব্যবহার করতে চায়, তাহলে সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় তারা বাংলাদেশকে ঠিকমতো বোঝে না। বন্যার স্থায়িত্বকে বিবেচনা করতে হবে স্থানভেদের ওপর ভিত্তি করে।

আমাদের প্রথমে বুঝতে হবে, বন্যা কী? একটি স্থান ডুবে গিয়ে যদি ক্ষতি হয়, তবে সেটাই বন্যা। সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত মাঠে ফসল থাকে না। এই সময় আমন ধান পানিতে ভেসে গেলেও পরে তা আবার বপন করার সুযোগ থাকে। পাট থাকতে পারে নিচু জমিতে, সেটা জুলাইয়ের শেষ দিকে কেটে ফেলা হয়। আর অল্প কিছু জমিতে আউশ ধান বপন করা হয়। সেটাও পানির মধ্যে টিকে থাকতে পারে এবং জুলাই-আগস্টের দিকে কেটে ফেলা হয়। বন্যায় মূল আক্রান্ত হচ্ছে চরের মানুষরা। যদি বাংলাদেশের ভূমির পাঁচভাগ চরাঞ্চল হয়, তাহলে চরগুলোতে প্রায় এক কোটি লোক বসবাস করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোক বাস করে যমুনার চরগুলোতে। এর বাইরে ভোলা, নোয়াখালীর হাতিয়া ও সন্দ্বীপের চরাঞ্চলে অল্প কিছু লোক বাস করে। ওই সব অঞ্চলে সমুদ্রের পানি নদীর জোয়ার-ভাটা নিয়ন্ত্রণ করে বলে সেসব স্থানে বন্যা হয় না। মানিকগঞ্জের আরিচার উজানের চরগুলোতে বন্যা হয়। সেখানে প্রায় ২০-২৫ লাখ মানুষ বাস করে। বর্ষাকালে এসব চরাঞ্চল পানিতে ডুবে যাওয়া স্বাভাবিক। আমরা গণমাধ্যমে যেসব বন্যাক্রান্ত মানুষের দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি, তা সব ওই চরাঞ্চলের। এই চরগুলোর ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে আমি অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মনে করি।

তবে আমি এটা বলছি না যে, এসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। আমরা ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতাকেও বন্যা বলতে পারি। কেননা, উজান থেকে বৃষ্টির পানির ঢল নেমেই তো বন্যা হয়। সে হিসেবে ঢাকা শহরের প্রায় ৫-৬ লাখ লোক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবার আমরা দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চল অর্থাৎ খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা ইত্যাদি জেলার দিকে তাকাই। আম্পানের সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে সেখানে জোয়ার-ভাটার পানি ঢুকছে। অমাবস্যা বা পূর্ণিমার সময় সেখানে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে ডুবিয়ে দিচ্ছে। আমার মনে হয়, সেখানকার প্রায় ৭০-৮০ ভাগ এলাকায় পানি ঢুকেছে। এসব অঞ্চলে যদি বুক সমান পানি থাকে, তাহলে চিংড়ির ঘের, কাঁকড়া চাষের জলাশয়, ধানের ক্ষেত সবই তো ভেসে যাওয়ার কথা। এটাকেও তো বন্যা বলতে হবে। আবার চট্টগ্রামের কথা ধরা যাক। সেখানে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই পানি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব পাহাড় আছে, সেখানকার বৃষ্টির পানি কর্ণফুলীর অববাহিকা দিয়ে নামার সময় বেশ উঁচুতে প্রবাহিত হয়। আর এর সঙ্গে যদি কাপ্তাই ড্যামের পানি ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার কথা। চট্টগ্রামের মানুষ যেগুলোকে খাল বলে, সেগুলো আমার বিবেচনায় নদী। এই খালগুলো দিয়ে এখন পানি নিষ্কাশিত না হওয়ার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। আবার অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানি উজান থেকে নামতে পারে না। যে কারণে আগ্রাবাদে কোমর সমান পানি দেখা যায়। হাওরাঞ্চলে বর্ষার সময় বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। সেখানকার যেসব উঁচু অঞ্চলে মানুষ বসাবাস করে, পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে সেসব জায়গাও ডুবে যায়।

দেশ রূপান্তর : করোনা মহামারীর মতো দুর্যোগের মধ্যে দেশের একটা বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে বন্যার প্রকোপ মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে ত্রাণ কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জকে কীভাবে দেখছেন?

আইনুন নিশাত : করোনার সঙ্গে বন্যার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এর সঙ্গে বন্যাদুর্গত মানুষের সম্পর্ক আছে। লকডাউনের কারণে প্রান্তিক মানুষ তিন-চার মাস ঘরে বসে ছিল, তাদের জীবিকার ব্যবস্থা ছিল না। তারা তখন সঞ্চয় ভেঙে জীবন চালিয়েছে। এখনো পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত অনেক মানুষেরই আয়-রোজগার বন্ধ রয়েছে। কারখানা খোলার পর অনেকে কাজে যোগ দিলেও বাকি একটি বড় অংশ এখনো ঘরেই রয়েছে। এমন অবস্থায় ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন আছে। আমি বেশ কয়েক বছর ধরেই বলে আসছি যে, আমাদের ত্রাণ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাংলায় অতীতেও বন্যা হয়েছে এবং তখন রাজা-বাদশাহরা ত্রাণ দিয়েছেন। ব্রিটিশদের শাসনামলেও ত্রাণ দেওয়া হতো। এখন এই ত্রাণ দেওয়া থেকে বেরিয়ে এসে মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা দরকার।

দেশ রূপান্তর : প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশে বন্যার প্রকোপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু বন্যার টেকসই ব্যবস্থাপনা কেন গড়ে উঠছে না? কীভাবে টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যায়?

আইনুন নিশাত : ১৯৬০-এর দশকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এতদিন এই বাঁধ ব্যবস্থাপনা ও মেরামতের কাজটি সুচারুভাবে করা হয়নি। টাকার অভাবে এটা হয়নি, সেটা আমি মানতে রাজি নই। গত দশ বছরে সরকার বাঁধ নির্মাণে প্রচুর টাকা দিয়েছে। কিন্তু সেটা তারা দিয়েছে অসময়ে। আমরা আর্থিক বছর শুরু করি জুলাই থেকে। যেজন্য উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয় সাধারণত জুন-জুলাইয়ে। এর ফলে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি কিংবা মার্চের শুষ্ক সময়ে কাজ শুরু না হয়ে তা মে-জুন-জুলাই মাসে শুরু হয়। তখন তো বাঁধ মেরামত করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। অনেকেই নির্বাহী প্রকৌশলী বা অন্য প্রকৌশলীদের দায়ী করে থাকেন। আমি তাদের দায়মুক্তি ঘটাতে চাই। তারা যদি কাজের উপযোগী সময়ে কাজ শুরু না করতে পারেন, তাহলে তো দোষ তাদের নয়। এখান থেকেই আসলে দুর্নীতির সূত্রপাত ঘটে। যদি মে-জুন মাসে টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পরে কাজ শুরু হয়, তাহলে বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারণে সেটা অসমাপ্ত থেকে যায়। এজন্য যদি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মেরামতের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়, তাহলে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাস সময় পাওয়া যায়। এজন্য যেসব ভালো কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, তারা অসময়ে বরাদ্দ পাওয়ায় কাজ সমাপ্ত করতে পারেন না। তাই এ বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানিসম্পদ, পরিকল্পনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিবেচনা করতে হবে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে গাফিলতি এবং ত্রুটিমুক্ত করতে হলে পুরনো পদ্ধতি বাদ দিতে হবে। এখনো বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ উঁচু করা হয়। অথচ আম্পানের সময় সেনাবাহিনী উপকূলীয় অঞ্চলে দুই বা তিন টনের বালু দিয়ে তৈরি যে জিটিউব ব্যাগ ব্যবহার করেছে সেটা অধিক কার্যকরী। সেনাবাহিনীর প্রকৌশলীরা যদি এ পদ্ধতি জানেন, সেক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা এটা জানবেন নাএই যুক্তি অগ্রহণযোগ্য। পাকিস্তান আমলে যে বাঁধগুলো নির্মিত হয়েছিল, তা নদী থেকে এক বা দেড় কিলোমিটার দূরে তৈরি করা হয়েছিল। এখন নদী ভাঙনের কারণে বাঁধগুলো নদীর দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছে। এজন্য সহজেই পানি বাঁধ ভেঙে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। আর পানি ভেতরে ঢুকলেও তা রাস্তার সংযোগ উন্নত হওয়ার কারণে বেশি একটা প্লাবিত করার কথা নয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ এসব রাস্তায় সেতু নির্মাণ না করে কালভার্ট তৈরি করেছে। এগুলো যেমন নৌচলাচলের জন্য অনুপোযোগী, তেমনি এসব কালভার্ট দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্য রাস্তায় পানি উঠছে। আমি মনে করি, বাঁধ নির্মাণ এবং মেরামতের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাতে না দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে দিলে তা অধিক কার্যকরী হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কেবল এগুলো মেরামতের বিভিন্ন পরামর্শ দেবে এবং কখন কাজ শুরু করতে হবে, সেই পরামর্শ দেবে। যথাসময়ে বর্ষা বা বন্যা হবেএটাই স্বাভাবিক। এটা না হলে আমাদের জন্য আশঙ্কার বিষয়। প্রকৃত অর্থে, আমাদের প্রস্তুতিহীনতা বন্যার মতো বিষয়কে অস্বাভাবিক করে তুলেছে। তাই এখন থেকে আমাদের সময়োপযোগী পদ্ধতি ব্যবহার করে বন্যা মোকাবিলা করা দরকার। এজন্য জাতীয় পর্যায়ে টাস্কফোর্স কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। আর তা না করতে পারলে ২০৩০ কিংবা ২০৪০ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

দেশ রূপান্তর : ঢাকা মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়াসা ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। কিন্তু এ বছরও বর্ষার সময় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এই ব্যয়ের ফলাফলকে শূন্য প্রমাণ করেছে। এক্ষেত্রে জলাবদ্ধতা নিরসনে কী পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে?

আইনুন নিশাত : ঢাকা মহানগরে এ বছর যে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে, এটা তেমন কিছু না। আজ থেকে ১০ বা ২০ বছর পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এখন বৃষ্টি হয়েছে ২০ বা ৫০ মিলিমিটার, এটা তখন ৩০০ মিলিমিটার হবে। তাই অতি দ্রুত ঢাকা নগরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাটি ঠিক করতে হবে। ঢাকার পশ্চিমাংশে বালু ব্রিজ থেকে বুড়িগঙ্গা ১ নম্বর সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কার্যকর থাকলে ভেতরে বৃষ্টির জন্য কিছু জলাবদ্ধতা হলেও নদীর পানি ঢুকতে পারবে না। কিন্তু পূর্বাংশে বালু নদীর পানি ঢুকে বিশাল অঞ্চল প্লাবিত করছে। এমনকি বনশ্রীও ডুবে যেতে পারে। তাই এজন্য যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, সেটা ১০০ কোটি টাকার নয়। ঢাকা মহানগরে পানি নিষ্কাশনের জন্য যে ৫৩টি খাল ছিল, সেগুলো জোর করে হলেও পুনরুদ্ধার করতে হবে। আমি ১৯৮০-এর দশকে রামপুরা খালে বড় বড় নৌকা চলতে দেখেছি, ১৯৭০-এর দশকে ধানমন্ডি খালে লাকড়ি বহনকারী নৌকা চলতে দেখেছি। এগুলো কোথায় গেল? আমরা খাল কংক্রিট দিয়ে ভরাট করে ফেলেছি। এর দণ্ড তো আমাদের দিতে হবে। এই খালগুলো পুনঃখনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে ঢাকা শহরের মানুষের দুর্গতি আরও বাড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত