ব্যাটারিতে চার্জ থাকবে ১ হাজার বছর!

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ০৫:৫০ এএম

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির প্রতি ক্রমেই বিরক্তি বাড়ছে মানুষের। ব্যাটারি সমস্যার সমাধান মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া। বিশেষ করে ইলেকট্রিক চালিত যানবাহনের সূচনা হওয়ার পর ব্যাটারি একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর সাত বিলিয়নের বেশি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বিক্রি হয় সারাবিশ্বে। ২০২৭ সাল নাগাদ এই বিক্রি ১৫ বিলিয়নে পৌঁছবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমতে থাকে। অতি উচ্চ ও শীতল তাপমাত্রায় ব্যাটারি ভালো থাকে না। এমনকি ব্যাটারি বিস্ফোরিত হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী মাওরো পাস্তার মতে, বিগত ৩৫ বছর ধরে ব্যাটারির উন্নয়নে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গবেষণা চলছে। দ্য ফ্যারাডে ইনস্টিটিউশন দীর্ঘদিন ধরে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির পরবর্তী ধাপ উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ব্যাটারির কার্যকরী সময়সীমার মেয়াদ বাড়ানো। বিজ্ঞানীরা দাহ্য ইলেকট্রোলাইট ফ্লুইডকে প্রতিস্থাপিত করতে চাইছে ভিন্ন কোনো পদার্থ দিয়ে। প্রাথমিকভাবে তারা সিরামিক দিয়ে তৈরি এক প্রকার নিরেট পদার্থ ব্যবহার করছেন।

বিজ্ঞানীরা এখন সুপারক্যাপাসিটার তৈরির চেষ্টা করছেন, যা মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে চার্জ হতে সক্ষম হবে। ইউনিভার্সিটি অব সিডনির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার লাবনা শবনম বলেন, ‘মাত্র এক মিনিটের মধ্যে মোবাইল চার্জ দেওয়ার সম্ভব হলে তা হবে যুগান্তকারী ব্যাপার। ভিনসেন্ট গোমেজের মতো বিজ্ঞানীরা বিকল্প হিসেবে ডুরিয়ান ও কাঁঠাল দিয়ে সুপারক্যাপাসিটর তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। ডুরিয়ান ও কাঁঠালে থাকা কার্বন অ্যারোজেলের মতো খুবই হালকা পদার্থ দিয়ে এ সুপারক্যাপাসিটর তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, তাদের এ প্রকল্প সফল হলে খুব অল্প সময়ে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া ছাড়াও ব্যাটারির ক্ষমতা হবে প্রচলিত ব্যাটারির চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি। বলা চলে, একটি ব্যাটারির বয়স হবে তখন প্রায় এক হাজার বছর। কাঁঠাল ও ডুরিয়ানের মতো ফলের ৭০ শতাংশই ফেলে দেওয়া হয়। বিশেষত ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কার মতো দেশে প্রচুর কাঁঠাল ও ডুরিয়ান উৎপাদিত হয়।

অন্য আরেক দল বিজ্ঞানী হীরে থেকে ব্যাটারি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। হীরেতে থাকা কার্বন-১৪ হলো ওই ব্যাটারির প্রধান উপকরণ। এ কার্বন দিয়ে বিজ্ঞানীরা বেটাভোলটিক ব্যাটারি তৈরি করতে চাইছেন, যাতে অন্তত এক হাজার বছর চার্জ থাকবে। বিজ্ঞানী দল ইতিমধ্যেই প্রোটোটাইট ডায়মন্ড ব্যাটারি তৈরিও করেছেন। তাদের মতে, এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা দীর্ঘমেয়াদে চার্জ থাকে এমন ব্যাটারি আবিষ্কারের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত