প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ঈদের দিন সময় করে খালেদা জিয়ার বাসভবনে গিয়ে তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে অনুরোধ করেছেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘এতে দেশবাসী খুশি হবেন এবং বঙ্গবন্ধু হেসে বলবেন, “ভালো করেছিস” মা।’ গতকাল সোমবার দুপুরে গণস্বাস্থ্যের অফিস সহকারী বাচ্চু মিয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ চিঠি পৌঁছে দেন।
‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একজন নাগরিকের খোলা চিঠি’ শিরোনামের এ চিঠিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন, অতীতে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এ খোলা চিঠি লিখছি। আশা করি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কেউ না কেউ আমার এ খোলা চিঠি আপনার নজরে আনবেন এবং আমি একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাব। প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটাই একজন নাগরিকের আকাক্সক্ষা।
চিঠিতে দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলা হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কভিড-১৯ আক্রান্ত হোক অথবা কভিডমুক্ত বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত রোগী, হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত দেন উক্ত হাসপাতালের পরিচালক, ডিউটিরত চিকিৎসক, নার্স বা ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার। কিন্তু বাংলাদেশে কভিড-১৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবে কি না, তার সিদ্ধান্ত দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রোগী বা চিকিৎসক নন। কেন্দ্রিকতার এরূপ নিদর্শন পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। কেন্দ্রিকতা দুর্নীতির সহজ বাহন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালেরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই, এমনকি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের, গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারেরও অনুমোদন নেই। আলাদা আলাদা তদবির মানে আলাদা তদবির ব্যয়, আলাদা দরাদরি। হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্র অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এমন নিয়মাবলি করেছে, যা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্থির করে দেয় কয়টি পায়খানা-প্রস্রাবখানা থাকবে, কয়জন ডিপ্লোমা নার্স থাকতে হবে। কেবল হাসপাতালের অনুমোদন থাকলে চলবে না, হাসপাতালের প্রত্যেক বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা অনুমোদন থাকতে হবে।
এ প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাফরুল্লাহ লিখেছেন, অনুগ্রহ করে সরকারি চাঁদা কত বেড়েছে তা লক্ষ করুন। হয়রানি ও দুর্নীতি একত্রে চলাফেরা করে।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী মাসে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা ওয়ার্ড উদ্বোধনের আহ্বান জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ আরও লেখেন, আগামী মাসে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা নিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সুবিধাসমেত করোনা সাধারণ ওয়ার্ড চালু করবে ধানম-িস্থ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এখানে সর্বসাকল্যে রোগীর দৈনিক খরচ পড়বে অনধিক ৩ হাজার টাকা। আপনি কি এই অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের সুবিধাসমেত জেনারেল ওয়ার্ডের উদ্বোধন করবেন?
প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনা করে চিঠিতে ডা. জাফরুল্লাহ আরও লেখেন, ‘আমলা ও গোয়েন্দাদের থেকে সাবধানে থাকুন। রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছে ডেকে নিন।’
চিঠির শেষের দিকে একটি জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একজন বোকা মুক্তিযোদ্ধার কামনা শিরোনামে লিখেছেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য আপনি কঠিন পরিশ্রম করছেন, কিন্তু লক্ষ্য থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বাড়ছে আপনার একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা। তাই দেশের এই কঠিন সময়ে আপনার নিজ দলের পুরনো সহকর্মীদের কাছে টেনে নিন এবং অন্য সব রাজনীতিবিদকে সঙ্গে নিয়ে আপনাকে অগ্রসর হতে হবে। তাদের নিশ্চিত করতে হবে সুশাসনের জন্য আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠু পরিবেশে। কোনো চালাকির নির্বাচন নয়, দিনের নির্বাচন রাতে নয়।’
