স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই কোরবানির পশুর হাটে

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ১০:৪১ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরবানির পশুর হাটগুলোয় গিজগিজ করছে পশু আর মানুষ। একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ দরদাম করছেন, কেউ পশু কিনে ট্রাকে তুলছেন। কিন্তু কোনও হাটেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ন্যূনতম পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে না। হাটগুলোতে কোনও ধরনের স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না।

সোমবার উপজেলার সরকারহাট, রুস্তমহাট ও চাতরী চৌমুহনী বাজারে সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইতিমধ্যে উপজেলার পশুর হাটগুলোতে কোরবানির পশু বেশ জমে উঠেছে। ক্রেতা টানতে মাইকিংসহ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ইজারাদাররা। কিন্তু ক্রেতা, বিক্রেতা কিংবা ইজারাদার যারাই পশুর হাটে আসছেন তাদের কারোরই স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে কোনও ভ্রুক্ষেপ দেখা যায়নি।

জীবাণুনাশক উপকরণ তো দূরের কথা, অধিকাংশ লোকের মুখে মাস্ক নেই। কারও কারও মাস্ক থাকলেও তা নামানো থুতনিতে। নেই পশুর হাটের আশপাশে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও। সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ঝুঁকি নিয়ে পশু কেনাবেচা চলছে।

তবে ইজারাদাররা বলছেন, আমরা মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পশুর হাট পরিচালনা করছি।

image

উপজেলার ১৭টি হাটবাজারের মধ্যে অন্যতম চাতরী চৌমুহনী বাজার, সরকারহাট ও বটতলী রুস্তমহাট।

সরেজমিনে এসব হাটের কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারের প্রায় সব ধরনের দোকান খোলা আছে। মৌসুমী ফলের দোকান ও মুদির দোকানে যথেষ্ট ভিড়। বাজারের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে অনেকেই খোশগল্প করছেন। তাদের অনেকের মুখে মাস্ক নেই। সবজির বাজার ঘিরে কেনাকাটা করছেন প্রচুর মানুষ। মাংসের বাজার, হাঁস-মুরগির বাজারে গিয়ে মনে হলো যেন কেনাকাটার উৎসব চলছে। গা ঘেঁষে হাঁস-মুরগি, মাংস কিনছেন অনেকে। সবকিছু স্বাভাবিক সময়ের মতো।

চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা সরকারহাটের এক ক্রেতা জানান, সামনে কোরবানির ঈদ তাই পশু কেনার জন্য হাটে এসেছি। পশুর হাটে গরু-ছাগলের দাম নিয়মের মধ্যে থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউই। বাজারে কাউকে মনিটরিং করতে দেখা যায়নি। যে কারণে আমরা বেশ আতঙ্ক বোধ করছি।

বটতলী রুস্তমহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা কী করব? পশুর হাটে অনেক লোক। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কেউই তা মানছেন না। আমরা বললেও কেউই শুনছেন না। মনে হচ্ছ পুরোনো হাটের রূপ ফিরে আসছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, পশুর হাটগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাটে প্রত্যেক মানুষের মুখে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করার কথা বিক্রেতাদের। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত