বন্যা মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ নিয়ে বিএনপির সমালেচনার জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজধানীতে বসে বসে প্রেস ব্রিফিংয়ে মিথ্যাচার করলে দেখতে পাওয়ার কথা নয়। বন্যা গুলশানে নয়, দেশের ৩১টি জেলাকে প্লাবিত করছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্ধ হয়ে থাকলে সরকারের উদ্যোগ ও সহায়তা দেখতে পাওয়া যায় না। গতকাল সংসদ ভবনের বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সেতুমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে বন্যা মধ্যাঞ্চলকে প্লাবিত করেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। চলছে খাদ্যসহ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম। বিএনপি মহাসচিব বন্যার্তদের সহায়তায় সরকারের কোনো ধরনের প্রয়াস খুঁজে পাচ্ছেন না, চোখে দেখছেন না।
তিনি বলেন, রাজধানীতে বসে বসে প্রেস ব্রিফিংয়ে মিথ্যাচার করলে দেখতে পাওয়ার কথা নয়। বন্যা গুলশানে নয়, দেশের ৩১টি জেলাকে প্লাবিত করছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ ও হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকা যায় না। বিএনপি না দেখলেও দেশের মানুষ এবং দুর্গত এলাকার মানুষ সরকারের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম দেখছে ও উপকৃত হচ্ছে।
বন্যা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইতিমধ্যে দেশের ৩১টি জেলায় বন্যার্তদের সহায়তায় ১ হাজার ৬০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রায় ৯০ হাজার মানুষ আশ্রয় পেয়েছে। গবাদি পশু আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৮০ হাজার। আশ্রয়কেন্দ্রে জরুরি চিকিৎসা সহায়তায় প্রায় নয়শ মেডিকেল টিম কার্যকর রয়েছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের কাছে ১২ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করা হয়েছে। নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া ১ লাখ ৩২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার এবং শিশুখাদ্য বাবদ ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পানিবন্দি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য নৌকাসহ প্রয়োজনীয় যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিতরণ করা হচ্ছে খাবার পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটর করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিচ্ছেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পানিবন্দি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা, রান্না করা খাবার বিতরণ, চিকিৎসা, ত্রাণ কার্যক্রমে প্রশাসনকে সহায়তায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন সক্রিয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব আরও একটি কথা বলেছেন, এ বন্যা নাকি সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ফল। বিষয়টি হাস্যকর। প্রত্যেকটি বিষয়ের সঙ্গে সরকারের সমালোচনা, মিথ্যাচার বিএনপির চিরায়ত ঐতিহ্য। তাই বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েও মিথ্যাচার! বিএনপি আসলে অপরাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। আমি তার কাছে জানতে চাই, সম্প্রতি চীনের ইয়াংজি নদী অববাহিকার ভয়াবহ বন্যা কি চীনের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ফল? জাপান ও আসামের বন্যাও কি একই কারণে? তাহলে বিএনপি আমলের যে বন্যা হয়েছিল তা কোন নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে হয়েছিল, জানাবেন কি?
এ সময় তিনি বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা নিয়েও কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছু বিভ্রান্তি এখনো রয়ে গেছে। অনেকে টিকিট জমা দিয়ে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে নমুনা দিচ্ছেন পরীক্ষার জন্য। কেউ কেউ ২৪ ঘণ্টা আগে রিপোর্ট পাচ্ছেন আবার কেউ কেউ পাচ্ছেন না। এতে শেষ মুহূর্তে মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে। আবার রেজাল্ট পজিটিভ এলে শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল করতে হচ্ছে। এর ফলে অনেকে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিদেশগামীদের ভোগান্তি কমাতে আমি একটি যৌক্তিক সময় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি লক্ষণ দেখা দিলেও অনেকে নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছে না। কোনো কোনো হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা, নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ, নমুনা গ্রহণে দীর্ঘ লাইন ও অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ ইত্যাদি কারণে পরীক্ষার প্রতি মানুষের অনীহা বাড়ছে। অপরদিকে টেলিমেডিসিনের আওতা বাড়ায় ঘরে বসেই অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের আস্থা ফেরাতে হাসপাতালগুলোকে সেবার মান ও আন্তরিকতা বাড়াতে হবে।
