সিআইডির রহস্য উদঘাটন

গজারিয়ার ট্রিপল মার্ডারে জড়িত নূর হোসেনের ক্যাডার বাহিনী

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ০৭:২২ এএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন ঘিরে ২০১৪ সালের মার্চে খুন হন বালুয়াকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন প্রধান, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মান্নান মনার স্ত্রী লাকি আক্তার ও গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মাহবুব আলম জোটন। দেড় বছরের তদন্তে পুলিশের অপরাধ বিভাগ (সিআইডি) এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করার দাবি করেছে।

সংস্থাটি বলছে, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেন তার ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে তিনজনকে খুন করান। সম্প্রতি তার সহযোগী রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের পরিবহন সন্ত্রাসী আক্তার ভূঁইয়া ও খোকন ভূঁইয়া সহোদরসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি।

গতকাল বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা তদন্ত শেষে ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাচনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে এ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছিল।’

সিআইডির কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের ঘটনার আগে নূর হোসেন ব্যাপক প্রভাবশালী ছিলেন। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক মুন্সীগঞ্জ, ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে চিটাগাং রোড হয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও কাঁচপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তার বিশেষ সখ্য ছিল রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের একসময়ের বিএনপিকর্মী আক্তার ভূঁইয়া ও খোকন ভূঁইয়া সহোদরের সঙ্গে। বিএনপি আমলে তাদের মাধ্যমে নূর হোসেন ঢাকা-কচুয়া রুটে গ্রিন সুপার পরিবহন নামে বাস চালু করেন।

এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে নূর হোসেনের সঙ্গে তারাও দল পরিবর্তন করে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কয়েকটি রুট নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন। পরে তারা ঢাকা-কোম্পানীগঞ্জ রুটে তিশা ক্লাসিক পরিবহন, ঢাকা-কুলিয়ারচর রুটে তিশা পরিবহন এবং ঢাকা-মাওয়া রুটে তিশা-গোধূলি ট্রাভেলস নামে শতাধিক বাস চালু করেন। ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ গজারিয়া উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেফায়েত উল্লাহ তোতার পক্ষে মাঠে নামেন নূর হোসেন। এরপর তিনি ঢাকা থেকে ক্যাডার বাহিনী নির্বাচনের মাঠে নামান এবং ভোটের দিন আক্তার ও খোকনের নেতৃত্বে বড় রায়পাড়া ভোটকেন্দ্র দখল করতে গেলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আমিরুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও বালুয়াকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন প্রধান বাধা দেন। এ সময় প্রকাশ্যে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

পরে শামসুদ্দিন প্রধানের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় আক্তার ভূঁইয়া, খোকন ভূঁইয়া, তবারক ভূঁইয়া, জাকারিয়া, মিল্টন দেওয়ান, আমান উল্লাহ দেওয়ান, ইকবাল, হেলাল উদ্দিনসহ ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। গতকাল শামসুদ্দিন প্রধানের স্ত্রী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য মর্জিনা বেগম বলেন, ‘কারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, সবাই জানে। খোকন ভূঁইয়া, জাকারিয়ারা তো এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। আমি আদালতের দিকে চেয়ে আছি। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত