বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ভাইরোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা ও কাজ করে যাচ্ছেন। এখন করোনা মহামারী মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এবার মহামারী ও বন্যার মধ্যে ঈদুল আজহা উদযাপনকে ঘিরে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা এবং মহামারী প্রতিরোধের নানা দিক নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রবীণ ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিন
দেশ রূপান্তর : এবার করোনা মহামারী আর দেশজুড়ে বন্যার মধ্যে উদযাপিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। ঈদকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহর-বন্দর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত এবং পশুর হাটের কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে মনে করে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। এক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধে মহামারী মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির কী কী সুপারিশ ছিল আর সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে। পরামর্শক কমিটির একজন সদস্য হিসেবে আপনি কী জানেন?
নজরুল ইসলাম : সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে সেটা আমি ভালো বলতে পারবো না। কারণ একেক জায়গায় একেক রকম হতে দেখছি। পরামর্শক কমিটির পক্ষ থেকে আমরা বলছিলাম শহরের মধ্যে পশুর হাট না বসাতে এবং যেখানে হাট বসবে সেখানে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা এবং হাত ধোয়াসহ জীবাণুনাশক ব্যবহারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে। কিন্তু আমরা ঢাকার ভেতরেও বেশ কয়েকটা হাট বাসাতে দেখলাম। চট্টগ্রামের কথা আমি জানি না।
ঈদ অনেক বড় উৎসব। এখানে ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্যগত বিষয় যুক্ত। মূলত স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিয়েই আমরা কিছু পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বাস্থ্যের প্রশ্ন বিচ্ছিন্ন কিছু না। ধর্মীয় এবং সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগতি রেখেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে হতো। ফলে পশুর হাট বসবে ঠিকই কিন্তু সেটাকে আমাদের পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে। পশু রাখার জায়গায় ফাঁকা ফাঁকা করে রাখা, ক্রেতাদের একদিক দিয়ে ঢুকে আরেকদিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা, হাত ধোয়া ও টয়লেটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা, জীবাণুনাশক ছিটানো এসব ঠিকঠাক করতে হতো। কিন্তু টেলিভিশনে দেখলাম ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটা হাটেও হাত ধোয়ার পানি এবং টয়লেটের খুব অভাব। তাহলে সুরক্ষা কীভাবে হবে?
পশুর হাটে যেমন তেমনি ঈদে দেশজুড়ে চলাচল করা গণপরিবহনেও যে স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলার খুব একটা তোয়াক্কা করা হচ্ছে না সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। কিন্তু এসব ঘাটতির কারণেই সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সেটার ফল আমরা হয়তো ইনকিউবিশন পিরিয়ড পার হওয়ার পর, অর্থাৎ দুই সপ্তাহ পরে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পেতে শুরু করব। তখন বোঝা যাবে আসলে আগের চেয়ে সংক্রমণ কতটা বেড়েছে।
দেশ রূপান্তর : লকডাউন করা না করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনেক কথা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এক মাসেরও বেশি আগে। কিন্তু পূর্ব রাজাবাজার আর ওয়ারীর পর আর কোথাও লকডাউন দেখা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সম্প্রতি দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, কোথায় কবে লকডাউন হবে, রেড জোনগুলোতে একসঙ্গে লকডাউন দেওয়া হবে নাকি একটার পর একটা জোনে একেক সময়ে লকডাউন হবে, সে সম্পর্কে তিনি স্পষ্টভাবে জানেন না। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, লকডাউন প্রয়োগ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনের মেয়ররা, আর তার নির্দেশনা আসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ জোন অনুযায়ী ম্যাপ করে দেওয়া, সেটা তারা করে দিয়েছেন, বাকিটা অন্যরা করবে। লকডাউন বিষয়ে পরামর্শক কমিটির বক্তব্য কী ছিল?
নজরুল ইসলাম : আমাদের সুপারিশ ছিল রেড জোনগুলোতে দ্রুত লকডাউন প্রয়োগ করা। আর সম্ভব হলে সব বা বেশিরভাগ জোনে একসঙ্গে লকডাউন শুরু করা। এখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে বলছেন তিনি জানেন না, অথচ এটা স্বাস্থ্যেরই ব্যাপার, এটা আমার ভালো লাগল না, এমন বক্তব্য অভিপ্রেত না। অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে ঠিকই। কিন্তু মন্ত্রী যদি বলেন যে তিনি জানেন না তাহলে তো আমরা সবাই হতাশ হয়ে পড়ব। বরং তারই তো সবাইকে তাগিদ দিয়ে কাজটা করানো দরকার ছিল।
লকডাউন নিয়ে একটা জরুরি কথা বলা প্রয়োজন। সেটা হলো, লকডাউন হবে ঠিকই কিন্তু সেটা আরও মানবিক হওয়া প্রয়োজন। লকডাউনের উদ্দেশ্য হলো সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের আইসোলেট করা, কোয়ারেন্টাইন করা এবং যারা সংক্রমিত তাদের চিকিৎসা করানো। এটুকুই মূল কাজ। অন্য কাজগুলো আনুষঙ্গিক। কিন্তু এখানে দেখা যায়, টেলিভিশনে দেখি আনুষঙ্গিক কাজগুলো নিয়েই অনেক বেশি কথা হয়। এখন লকডাউনের নামে মানুষকে ঢুকতে, বের হতে না দেওয়া, বিরাট বিরাট বাঁশ দিয়ে গেইট আটকে রাখাকেই যেন লকডাউন মনে করা হচ্ছে। সেখানে যে স্যাম্পল কালেকশন হচ্ছে, চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সেসব কিন্তু আমরা দেখছি না। এ বিষয়ে গণমাধ্যমেরও একটা দায়িত্ব আছে। গণমাধ্যমও লকডাউনের বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারছে না। সরকারি বক্তব্য-বিবৃতিতেও বিষয়টা স্পষ্ট করা যায়নি। সব মিলিয়ে লকডাউন এখন সাধারণ মানুষের কাছে একটা আতঙ্কের চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছে। অথচ হওয়ার কথা ছিল উল্টো।
এখন যেটা হচ্ছে যে, লকডাউনের নামে একজন গর্ভবতী নারীকে রাস্তায় তিনঘণ্টা আটকে রাখার বাহাদুরি দেখানো হচ্ছে। এসব কারণেই কোথাও লকডাউন শুরু করার আগেই সে এলাকা থেকে ভাড়াটিয়ারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। লকডাউনকে এমনই ভীতিকর বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে। যে কারণে লকডাউন করতে গিয়ে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে না, অথচ সেটা খুবই জরুরি। স্থানীয় সরকারকে আমি বলব তারা যেন লকডাউনকে মানবিকভাবে উপস্থাপন এবং মানবিকভাবেই তা প্রয়োগ করার জন্য উদ্যোগ নেন।
দেশ রূপান্তর : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংক্রামক রোগতত্ত্ববিদরা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেছেন, বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন লকডাউনের কৌশল সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনো কাজে লাগছে না। তারা বলছেন ধীরগতিতে ছোট ছোট জায়গায় লকডাউন হলে পুরনো জায়গাগুলোতে আবার নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। আসলে লকডাউন প্রয়োগ করার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি কী হওয়া উচিত। একজন ভাইরোলজিস্ট হিসেবে আপনি কী মনে করেন?
নজরুল ইসলাম : জনস্বাস্থ্যবিদদের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। একই সময়ে যদি আমরা সবগুলো রেড জোনে লকডাউন করতে পারতাম, তাহলে এর কার্যকারিতাটা সবাই বুঝতে পারত। ঢাকার উত্তরা ও মিরপুরে অনেক বেশি সংখ্যক সংক্রমিত মানুষ রয়েছেন। মোহাম্মদপুর, রাজারবাগ এলাকাতেও অনেক রোগী। কিন্তু এসব জায়গায় কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে না। কিন্তু সেটা না করার কারণেই কিন্তু সংক্রমণ আরও বেড়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে এভাবেই সংক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে। মে মাসের ১৫ তারিখে ঢাকায় রেড জোন ছিল মাত্র ১০টা। আর জুন মাসের ৭ তারিখে রেড জোনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫টায়। এই যে কালক্ষেপণ করে আমরা রেড জোনের সংখ্যা বাড়ার সুযোগ করে দিলাম এটার দায় তো আমাদেরই। আমি শুধু সরকারের কথা বলছি না। আমরা সবাই মিলেই এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছি। আসলে আরও অনেক আগেই এসব স্থানে লকডাউন করা প্রয়োজন ছিল।
দেশ রূপান্তর : কিছুদিন ধরে সংক্রমণ স্থিতিশীল থাকায় অনেকে বলছেন ঢাকায় করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ বা ‘পিক’ পার হয়ে গেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন পরীক্ষার হার কমে যাওয়ার কারণেই সংক্রমণ হারের ধীরগতি, আসলে প্রকোপ কমেনি। পরিসংখ্যান বলছে দেশের এক-চতুর্থাংশ রোগীই ঢাকা মহানগরে, বাকি তিন-চতুর্থাংশ ঢাকার বাইরে। মোট মৃত্যুর অর্ধেকই ঢাকা বিভাগে আর প্রায় ২৫ শতাংশ চট্টগ্রামে। পাশাপাশি শহর ও শিল্পাঞ্চলগুলোর সঙ্গে যাতায়াত বেশি এমন গ্রামাঞ্চলেও সংক্রমণ বেড়েছে। আপনার কী মনে হয়?
নজরুল ইসলাম : মে মাসের পঁচিশ তারিখ থেকে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার যে ফল পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষিত নমুনার মধ্যে সংক্রমণের হার ২০ শতাংশে পৌঁছে গেছে। জুলাইয়ের শেষে এসেও কিন্তু এখন সংক্রমণের হার ২৩ শতাংশ। ধীরগতিতে হলেও সংক্রমণ কিন্তু বাড়ছেই। এই অবস্থাটাকে আমি পিক মনে করি না। এটা একটা প্লেট্যু। আমার ধারণা ঈদের পর আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আমরা হয়তো সংক্রমণ হারের আরেকটা উল্লম্ফন দেখতে পাব। কেননা, ঈদের মধ্যে দেশজুড়ে যাতায়াত, পশুর হাট ইত্যাদি থেকে যে সংক্রমণটা হবে তার ফল দেখা যেতে শুরু করবে আগস্টের মাঝামাঝি সময়টাতে। লক্ষ করা যেতে পারে যে, এই সময়ের পরে দেশে আর সহসা বড় কোনো উৎসব নেই। ফলে ব্যাপক জনসমাগমের আশঙ্কা কম থাকার কথা। ফলে এই সময়টা পর্যন্ত দেখার পর আমরা বুঝতে পারব আসলে আমরা সংক্রমণের চূড়া বা পিক স্পর্শ করেছি কি না।
দেশ রূপান্তর : সংবাদকর্মী হিসেবে আমরা সরকারের ব্রিফিংগুলোতে নজর রাখি, আপনাদের মতো বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলি। বিভিন্ন সময়ে লকডাউনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপগুলোর আপডেট জানার চেষ্টা করি। কিন্তু দেশে সংক্রমণ শুরুর চার মাসেরও বেশি পেরিয়ে যাওয়ার পরও করোনা মহামারী প্রতিরোধে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল স্পষ্ট হতে দেখা যাচ্ছে না। বরং নানারকম স্ববিরোধী আর বিভ্রান্তিকর পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষরাও মহামারী প্রতিরোধের কোনো দিশা পাচ্ছে না। আপনার কি মনে হয় সরকার কি করোনা প্রতিরোধের কৌশল এবং করণীয় জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পেরেছে?
নজরুল ইসলাম : আপনি ঠিকই বলেছেন। সাধারণ মানুষ এবং আপনারা যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন আপনারা বিভ্রান্ত অবস্থাতেই আছেন। বিভ্রান্ত করেছি আমরাই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলি আর মন্ত্রণালয়ই বলি, তারা কোনো স্পষ্ট বার্তাই ঠিক মতো দিতে পারেনি। মহামারী প্রতিরোধের দুটো অংশ আছে। একটা হলো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা আরেকটা হলো যারা সংক্রমিত হয়েছে তাদের চিকিৎসা করা। সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যক্তিপর্যায়ের দায়িত্ব হলো, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ইত্যাদি। আর সামষ্টিকভাবে দায়িত্বটা হলো সংক্রমণঘন এলাকায় লকডাউন করা। কিন্তু লকডাউন বিষয়টাই এখানে অমানবিক ও আতঙ্কের চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছে। অথচ মহামারী প্রতিরোধে মনোবল চাঙ্গা রাখা এবং আতঙ্কিত না হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্য যারা মহামারী প্রতিরোধের কাজে জড়িত তাদের অবশ্যই বুঝেশুনে কাজ করতে হবে। তারা যেসব কাজ করছে তাতে মানুষ ভীত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষকে সম্পৃক্ত না করে মন্ত্রণালয় একা এসব করতে পারবে না। অত সামর্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেই। কোনো মন্ত্রণালয়েরই নেই। আরেকটা বিষয় হলো সংক্রমিতদের চিকিৎসা করা। কিন্তু শুরু থেকেই দেখা গেল হাসপাতালগুলো অত্যন্ত অমানবিক চেহারা নিয়ে মানুষের সামনে এলো। হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার হালচাল দেখে মানুষ ভয়ে হাসপাতালমুখো হচ্ছে না। এখন বেশিরভাগ হাসপাতালের বেড খালি। ফলে বাস্তবতাটা আপনারা বুঝতেই পারছেন। হাসপাতালগুলোতে অবশ্যই মানবিক আচরণের সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশ রূপান্তর : সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর যে চিত্র গত কয়েক মাসে দেখা গেছে তাতে হাসপাতালকে ভয় পাওয়াটা তো অস্বাভাবিক নয়। এদিকে, নমুনা পরীক্ষা না করেই করোনার নেগেটিভ-পজিটিভ ফল দিয়ে দেওয়াসহ ভয়াবহ জালিয়াতি ও দুর্নীতির খবরগুলোও সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। আপনার কি মনে হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলি বা সরকার বলি তারা কেন মহামারী সামলানোর ব্যবস্থাপনায় এত তালগোল পাকিয়ে ফেলল?
নজরুল ইসলাম : করোনা মহামারী হালকা-পাতলা কোনো বিষয় নয়। ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ-আমেরিকার অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা আমরা দেখেছি। কিন্তু সেসব আমলে নেওয়া হয়নি। আমাদের এখানে প্রশাসকরা সবাই সাহেব-সুবো সেজে থাকেন। কিন্তু তারা কিছুই দেখেন না কিছুই শেখেন না। করোনা মহামারী মোকাবিলা করতে হলে আমাদের প্রশাসক বা মন্ত্রী-সচিবদের অনেক কিছু শিখতে হবে। একটা উদাহরণ দিই। মন্ত্রী এবং সচিব, মাত্র দুজন মানুষ মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন যে, করোনা পরীক্ষার ফি দিতে হবে দুশো টাকা করে। ফলাফল দেখুন। জুলাই মাসের ২ তারিখে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরদিনই জুলাইয়ের ৩ তারিখে পরীক্ষার সংখ্যা কোথায় নেমে গেল। একদিনে তা ১৮ হাজার থেকে ১৪ হাজারে নেমে এলো। কত টাকা আয় হবে এভাবে? এই দুশো টাকা করে নিয়ে আপনারা কি সরকারকে বড়লোক বানিয়ে ফেলবেন? এসব সিদ্ধান্ত যারা নেন তাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা অনেক জ্ঞানী-গুণী, কিন্তু আপনাদের কাজ শিখতে হবে, কাজ শিখে তারপর কাজটা করুন।
