প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ছাড়াই চাঙ্গা পুঁজিবাজার

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২০, ০৭:২৬ এএম

পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে চলতি বছরের শুরুতে সরকারের তরফ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে গিয়ে ব্যাংকগুলো যাতে তারল্য সংকটের মধ্যে না পড়ে সেজন্য বিশেষ সুবিধায় তহবিল গঠনেরও সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিনিয়োগ গণনার ক্ষেত্রেও শিথিলতা আনা হয়। তবে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার পরও তাতে সাড়া দিচ্ছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। ছয় মাসে ১৪টি ব্যাংক বিশেষ তহবিল গঠন করলেও তা থেকে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ১৯০ কোটি টাকা। অধিকাংশ ব্যাংক তহবিলই গঠন করেনি।

অবশ্য ব্যাংকের অংশগ্রহণ ছাড়াই ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। ফ্লোর প্রাইসে আটকে গিয়ে দেড় মাসেরও বেশি সময় পুঁজিবাজার তলানিতে নামলেও সম্প্রতি চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। বাজারের প্রতি ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে থাকায় লেনদেন ও সূচকে ধারাবাহিক উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এখন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে বেশি মূল্যে কেনাবেচা হচ্ছে। বর্তমানে ডিএসইতে মোট লেনদেনের ৯০ শতাংশের বেশি আসছে ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে।

চলতি বছরের শুরুতে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিক্রিচাপ সামাল দিতে ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। এজন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। সে সময় ব্যাংক মালিকরাও আশ^াস দিয়েছিলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের। এজন্য ব্যাংকগুলো যাতে তারল্য সংকটের মধ্যে না পড়ে সেজন্য গত ১০ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষ তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচ বছর মেয়াদি ওই তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য একটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করবে, যা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ গণনার বাইরে থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তহবিল গঠনের পর গত ছয় মাসে মোট ১৪টি ব্যাংক ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। ওই তহবিল থেকে গত ছয় মাসে মাত্র ১৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এক সময়ে বাজারের প্রধান অংশীদারের এমন আচরণে কিছুটা ক্ষুব্ধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (এসইসি)। ব্যাংকগুলোর কাছে বিশেষ তহবিল গঠন ও এর বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে এসইসি। ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ তথ্য পর্যালোচনা করে হতাশ হয়েছে এসইসি। তবে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে বর্তমানের কঠোর অবস্থানের কারণে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে লেনদেনে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা তৎপর হওয়ায় স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। দুই মাসের ব্যবধানে লেনদেন কয়েক গুণ বেড়েছে। টানা ৬৬ দিনের লকডাউনের পর গত ৩১ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ট্রেড ছিল ২৮ হাজার ৮৭৩টি। পরবর্তীতে কিছুটা কমে গেলেও তা এখন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল ডিএসইতে মোট ট্রেড হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ১৭টি। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। গত ১৫ জুলাই ডিএসইতে কেনাবেচা হয় ২৬৭ কোটি টাকা, যা গতকাল ৫৮০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

ফ্লোর প্রাইসের কারণে শেয়ার দরে যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল ধীরে ধীরে তা কাটতে শুরু করেছে। বর্তমানে অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দর ফ্লোর প্রাইসের ওপরে অবস্থান করছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাজার চাঙ্গা হওয়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে ওষুধ ও বীমা খাত। বীমা খাতের লভ্যাংশ ঘোষণা ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের কারণে গত এক মাসে বীমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে উল্লম্ফন দেখা গেছে। এ সময়ে বেশ কয়েকটি বীমা কোম্পানির শেয়ার দর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এক মাসে সাধারণ বীমা খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ৪১ শতাংশ। এ সময়ে ওষুধ খাতের বাজার মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে নানা রকমের টানাপড়েনের পরও সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনী কোম্পানি গ্রামীণফোনের শেয়ার দর বাড়ছে।   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত