লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের। গত মঙ্গলবার বৈরুতে ভয়াবহ দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত ও প্রায় পাঁচ হাজার আহত হওয়ার পর ধ্বংসযজ্ঞে রূপ নেওয়া শহরটির মানুষ এখন ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো সরকার পতনের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে।
বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সরকারবিরোধী সেøাগান দিতে দেখা যায়। দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের কাছে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী।
মঙ্গলবারের ওই বিস্ফোরণের পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ। সরকারিভাবে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, গুদামে মজুদ ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরিত হয়ে মারাত্মক ওই বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সাল থেকে এতগুলো রাসায়নিক অনিরাপদে সেখানে মজুদ ছিল। লেবাননের অনেকে অভিযোগ তুলছেন, সরকারের গাফিলতির কারণেই এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণের মুখে পড়তে হয়েছে শহরের মানুষকে। যাতে অসংখ্য মানুষ হতাহত ছাড়াও তিন লক্ষাধিক মানুষ হয়েছে বাড়িছাড়া। শহরটিতে মজুদ খাবারের ৮৫ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে, যা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ, আতঙ্ক আর হতাশা।
১ লাখ ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার ওই মজুদাগার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে যে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে তা রাজনৈতিক পালাবদলের সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে লেবাননে বেশ কয়েকবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভগুলো দমনে বৈরুত প্রশাসনকে কঠোর হতেও দেখা যায়। এক পর্যায়ে নির্বাচন দিয়ে বিক্ষোভ বন্ধ করতে হয় সরকারকে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইতিমধ্যেই বহির্শক্তি লেবাননে প্রবেশের চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন বহির্শক্তিকে দেশটি দূরে রাখতে সমর্থ্য হলেও এবারের সংকটে ক্ষমতাসীনদের পতন হলে গণতন্ত্রের নামে বহির্শক্তি সহজেই প্রবেশ করতে পারে দেশটিতে।
খাবার ও কৃষিবিষয়ক সংস্থার (এফএও) লেবাননের প্রতিনিধি মরিস সাদ রয়টার্সকে বলেন, ‘বেসরকারি খাতে কিছু ছোট মজুদাগার রয়েছে যেখানে কিছু গম মজুদ আছে। কিন্তু এই মজুদ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।’ ইতিমধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও অল্প পরিসরে বিক্ষোভও হয়েছে। এই বিক্ষোভ যেকোনো মুহূর্তে সম্মিলিত প্রতিবাদে রূপ নিতে পারে। ৬০ লাখ জনগোষ্ঠীর দেশের সরকারের খাবার মজুদের কোনো বিকল্প মজুদাগারের ব্যবস্থা নেই, যা হতবাক করেছে দেশবাসীকে।
লেবাননের মোট গম চাহিদার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই আসে কৃষ্ণসাগর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে। আর বাকটা আসে স্থানীয় উৎপাদন থেকে। তবে স্থানীয় গমের মান ভালো না হওয়ায় পাস্তা ব্যতীত অন্য খাদ্য তৈরি করা যায় না।
মঙ্গলবারের ওই জোড়া বিস্ফোরণ রাজধানীর পুরো জেলাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। বিস্ফোরণের পর শুরু হওয়া সরকারি তদন্তের আওতায় অভিযুক্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা। চার দিনের মধ্যে দোষীদের খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি দেখতে বৈরুত সফরে গেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বিদেশি নেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম বৈরুত সফরে গেলেন।
