ভারতের কেরালায় প্রায় ২০০ আরোহী নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে পিছলে গিয়ে দুই টুকরো হয়ে যায় উড়োজাহাজটি। বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে কেরালার কোঝিকোড়ের কারুপুর বিমানবন্দরে। এই ঘটনায় দুই পাইলটসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে অন্তত ১২৩ জন। এদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংবাদ সংস্থা পিটিআইর খবরে বলা হয়েছে, প্রবল বৃষ্টিপাতে পিচ্ছিল রানওয়েতে উড়োজাহাজটি পিছলে যায়। সেখানে নামতে গিয়েই এরপরই আছড়ে পড়ে উড়োজাহাজটি দ্বিখ-িত হয়ে যায়। পরে আগুনও ধরে যায় দুই অংশেই।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে অনেকটাই নির্ভর করতে হবে ব্ল্যাকবক্সের ওপর। কারণ যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখান থেকে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানাচ্ছে, করোনা-পরিস্থিতির আবহে বিদেশে আটকেপড়া ভারতীয়দের এ দেশে নিয়ে আসছিল দুর্ঘটনাগ্রস্ত এয়ার ইন্ডিয়ার এক্স-১৩৪৪ বিমানটি। দুবাই থেকে কোঝিকোড়গামী ওই বিমানে কর্মী ও যাত্রীসহ মোট ১৯১ জন ছিলেন। ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তরফে রাজীব জৈন জানিয়েছেন, ওই বিমানে ১৭৪ যাত্রী, ১০ নবজাতক, ২ জন পাইলট এবং ৫ জন ক্রু ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে দমকলবাহিনীসহ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, আটকে পড়া সকলকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এক বিবৃতিতে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির কারণে বিমানের চাকা পিছলে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার খবর শোনার পর টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লিখেছেন, কোঝিকড়ের বিমান দুর্ঘটনায় অসম্ভব যন্ত্রণা অনুভব করছি। আহতরা দ্রুত সেরে উঠুন। কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছি। উদ্ধারকার্য দ্রুততার সঙ্গে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইটারে লিখেছেন, কেরালার কোঝিকোড়ে এই দুঃখজনক দুর্ঘটনার কথা জানতে পেরে পীড়িত। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (এনডিআরএফ) ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। টুইট করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও।
