শারীরিক প্রতিবন্ধী মহুবর রহমান (৫০)। এবারই তার প্রতিবন্ধী ভাতা চালু হয়। ঈদের আগে গত ৩০ জুলাই ভাতা তুলতে যান ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে। সেখানে তাকে ৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ভাতা তুলে দরজার বাইরে আসামাত্র তার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল টাকাগুলো নিয়ে নেন। বলেন, বরাদ্দ আনতে খরচ হয়েছে। সে খরচ এবং চেয়ারম্যানকে দিতে হবে এই বলে ওই ৯ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকাই নিয়ে নেন। তাকে ১ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দেন ইউপি সদস্য।
ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদে। ওই প্রতিবন্ধী গতকাল রবিবার এই প্রতিবেদকের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন। এর আগে তিনি উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে গিয়েও অভিযোগ করেন বলে জানান।
মহুবর বলেন, প্রতিবন্ধী অনেকের কাছ থেকে এভাবে টাকা নিচ্ছিল মেম্বাররা। চেয়ারম্যানও সেখানে উপস্থিত। কেউ কিছু না বলায়, তিনিও ভয়ে কিছু বলতে পারেননি। তিনি জানান, ইউএনওর কাছে অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন। উনি তাকে সমাজসেবা অফিসে যেতে বলেছেন। এ ব্যাপারে মহুবর সমাজসেবা কর্মকর্তা বরাবর গতকাল রবিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
৯ হাজার টাকার মধ্যে ৮ হাজার টাকা কেটে নিলেন কেন এ প্রশ্নে ইউপি সদস্য জয়নাল বলেন, ‘আমি ওনার কাছে কী নিছি না নিছি কথা বলে বিষয়টা সমাধান করে দেব।’
এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম আবুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রকম ঘটনা হতে পারে। ওই ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করে দেবেন। তবে এ ঘটনায় তিনি জড়িত নন বলে জানান।
এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, অর্ভিযোগ পেলে তিনি বিষয়টি দেখবেন। তার উপজেলায় এখনো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়নি, হয়তো শিগগিরই হয়ে যাবে।
উলিপুর সমাজসেবা অফিস সূত্র জানায়, এবার হাতিয়া ইউনিয়নে ২১০ জন প্রতিবন্ধীকে নতুন করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকে ৯ হাজার টাকা করে ভাতা পেয়েছেন।
