ইন্টারনেট থেকে আয় বেড়েছে বাংলালিংকের

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ০৭:২৩ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়েছে। এর প্রভাবে বাংলালিংকের ইন্টারনেট থেকে আয় বাড়লেও কমেছে মোট আয়।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ইন্টারনেট ডেটা থেকে আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ। গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এপ্রিল-জুন সময়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আয় করেছে বাংলালিংক। গত বছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট রাজস্ব আয় কমেছে।

বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক অস বলেন, এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ডেটা থেকে আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ফোরজি নেটওয়ার্কে বাংলালিংকের চলমান বিনিয়োগ এই বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী সম্প্রসারিত উন্নত নেটওয়ার্কের কারণে বাংলালিংকের ডেটা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও ডেটা ব্যবহার গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে বেড়েছে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ ও ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইন্টারনেট ডেটা থেকে আয় হয়েছে ২৯০ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময় ছিল ২৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাংলালিংকের ৩ কোটি ২১ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ২ কোটি ১৮ লাখ ডেটা ব্যবহার করছেন। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

এ সময় গ্রাহক ডেটা ব্যবহার হয়েছে ২ হাজার ২৪০ এমবিপিএস, যা ২০১৯ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ১ হাজার ২৫০ এমবিপিএস । অর্থাৎ ডেটা ব্যবহার বেড়েছে ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ।

করোনাকালে নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ইতিবাচক ব্যবসায়িক ফলাফল অব্যাহত রাখতে আশাবাদী এরিক অস। তিনি বলেন, টেলিকম খাতের ওপর করোনাভাইরাসের সামগ্রিক প্রভাবের ফলে বাংলালিংকের মোট আয় ও গ্রাহক সংখ্যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে কমেছে। তবে এ সময় ডেটা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও ডেটা থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে সক্ষম হয়েছে কোম্পানি।

সংবাদ সম্মেলনে এরিক অস করোনার সময় বাংলালিংকের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরেন। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে ফ্রি করোনা হটলাইন নম্বর চালু করা, ‘টিচ ইট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ই-লার্নিংয়ের ব্যবস্থা, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপ ও সেমিনারের আয়োজন এবং বাংলাদেশ সেনা কল্যাণ সংস্থা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ উল্লেখযোগ্য।

সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার গাইডলাইন (এসএমপি) বাস্তবায়নে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রতি ধন্যবাদ জানান এরিক অস। এই উদ্যোগকে টেলিকম খাতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করেন তিনি।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার জেম ভেলিপাসাওগ্লু, সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অফিসার জুবায়েদ উল ইসলাম ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য যুক্ত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত