সিলেটে নব্য জেএমবির ৫ সদস্য গ্রেপ্তারের পর রাতে অভিযান

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২০, ০৬:২৩ এএম

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সিলেট সেক্টর কমান্ডারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। গত সোমবার রাত ১টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত সিটিটিসি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ল ফুল ইন্টারসেপশন সেলের (এলআইসি) যৌথ দল সিলেট নগরীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে গতকাল রাত ৮টার দিকে দুই জঙ্গির বাসায় অভিযানে যায় সিটিটিসি সদস্যরা। এর মধ্যে সিলেট নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় এক জঙ্গির বাসা থেকে বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও ১টি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর টিলাগড়ের শাপলাবাগের আরেকটি বাসায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। গতকাল রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। 

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন নব্য জেএমবির সিলেট আঞ্চলিক কমান্ডার ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাইমুজ্জামান। প্রথমে তাকে গ্রেপ্তারের পর সিলেট শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদি এবং মদনমোহন কলেজের সায়েম নামে দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানা গেছে। গ্রেপ্তার অন্য দুজনের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সিটিটিসির উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিলেটের মিরাবাজার, টুকেরবাজার ও দক্ষিণ সুরমায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবাই নব্য জেএমবির সদস্য। সিলেটে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।’

সিটিটিসির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তাররা হযরত শাহজালালের মাজারে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। এছাড়া ঈদুল আজহার আগে রাজধানীর পল্টনে পুলিশের মোটরসাইকেলে বোমা রাখার ঘটনার সঙ্গেও তারা জড়িত।  সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৬ জুলাই রাতে ঢাকার পল্টনে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের পাশে মোটরসাইকেল রেখে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের একজন সার্জেন্ট। রাত পৌনে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলের কাছে এসে তিনি দেখেন সেখানে একটি পলিথিন ব্যাগ ঝুলছে। ভেতরে ‘গ্রেনেড’ সদৃশ একটি বস্তু দেখে তিনি দ্রুত পুলিশ বক্সে খবর দেন। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল গিয়ে ওই বোমা নিষ্ক্রিয় করে। তারও আগে ২৫ জুলাই প্রায় একই সময়ে পল্টন মোড়ে কে বা কারা একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। ওই ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়েই সিলেট থেকে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

দুই জঙ্গির বাসায় অভিযান, বোমা উদ্ধার : গ্রেপ্তার পাঁচ জঙ্গির মধ্যে দুজনের বাসায় গতকাল রাত ৮টার দিকে অভিযানে যায় সিটিটিসি সদস্যরা। অভিযানে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন এসএমপির উপকমিশনার (ক্রাইম) শাহরিয়ার আল মামুন।

অভিযানের সময় ওই ওয়ার্ডের সিটি কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানও উপস্থিত ছিলেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, জালালাবাদ আবাসিক এলাকার মইনুল আহমদের বাসায় (নম্বর-৪৫/১০) অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাসা থেকে বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়।

এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর টিলাগড়ের শাপলাবাগের আরেকটি বাসায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। এই অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও অংশ নেয়। গতকাল রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত