কুমিল্লার তিতাস উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আহম্মেদ ফকিরের ইয়াবা সেবনের দৃশ্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় উপজেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফরহাদ গাজীপুর গ্রামের জুরু মিয়ার ছেলে।
ভাইরাল হওয়া ৩১ সেকেন্ডের ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ফরহাদ একটি ঘরের ভেতর বিছানায় বসে ইয়াবা সেবন করছেন। তার ইয়াবা সেবনের ওই দৃশ্য কে বা কারা কৌশলে ধারণ করে তা ফেইসবুকে আপলোড করে। পরে তা এলাকার অসংখ্য মানুষের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার মানুষের কাছে এটি এখন আলোচিত ঘটনা।
তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন তার ফেইসবুক ওয়ালে ফরহাদ আহম্মেদের মাদক সেবনের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘এরা কারা? কী খাচ্ছে এরা? কয়েক মাস আগে এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পর্কিত একটি হুঁশিয়ারি আমি ফেইসবুক স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছিলাম। এই সেই জনপ্রতিনিধি, আমাদের উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ আহম্মেদ ফকির।’
এই আওয়ামী লীগ নেতা আরও লেখেন, ‘এখন এসব দৃশ্য দেখে কী বলব বুঝতে পারছি না। কোনো জনপ্রতিনিধির এই অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সে আর জনপ্রতিনিধি থাকার নৈতিক অধিকার রাখে না। আবার সে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকারও নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে।’
জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম মুরাদ ও ফরহাদ আহম্মেদ ফকির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অনিয়মের অভিযোগে ওই নির্বাচন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। পরে ২১ অক্টোবর নির্বাচনের দিন ধার্য করে পুনরায় তফসিল ঘোষণা হয়। ওই সময় মুরাদকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ফরহাদ।
ইয়াবা সেবনের ভিডিও চিত্রের ব্যাপারে জানতে ফরহাদ ফকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে বাড়িতে গেলে তার বাবা বলেন, ‘সে (ফরহাদ) ঢাকা গেছে।’
