‘ভুল করে’ খুন করা হয় সুলতানকে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২০, ১১:২৯ পিএম

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা সুলতান হোসেন (৪৬) ভুল টার্গেটের শিকার হয়ে নির্মমভাবে খুন হন। মতিঝিলের একটি মানি এক্সচেঞ্জ অফিস থেকে ব্যাগসহ বের হতে দেখে তাকে টার্গেট করে র‌্যাব পরিচয়ে খুন ডাকাতিতে জড়িত একটি চক্র।

তারা ভাবে সুলতানের কাছে অনেক ডলার আছে। এমন ধারণা থেকে তারা সুলতানকে অনুসরণ করে সুবিধামতো স্থানে গিয়ে র‌্যাব পরিচয়ে জোর করে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলে। কিন্তু তার কাছে কোনো ডলার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়, এ সময় সুলতান চিৎকার করার কারণে গলায় গামছা পেচিয়ে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দেয় চক্রটি। 

তারা দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতি করে আসছিল। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার হুন্ডির ব্যবসায়ী, ডলার বহনকারী কিংবা ব্যাংকে মোটা অংকের টাকা লেনদেনকারীদের টার্গেট করে ডাকাতি করত। ডাকাতির সময় হাত-পা বেঁধে মারধর করে ভয়ভীতিও দেখাত। অনেক সময় খুনও করত তারা। 

সুলতান হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনসহ এ চক্রের সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। 

বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, ফরহাদ হোসেন (৩০), মো. জালাল উদ্দিন ওরফে সুমন (৩৫), কাজী মো. আকবর আলী (৪৫), সাহারুল ইসলাম ওরফে সাগর (২১), আমিনুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৫০), রুহুল আমিন (৪০) ও ইব্রাহীম ওরফে নেতা ইব্রাহীম ওরফে মেম্বার ইব্রাহীম (৩৭)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ডাকাতি ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত র‌্যাবের ২টি জ্যাকেট, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ওয়্যারলেস সেট, ১টি পিস্তল, ম্যাগজিন সংযুক্ত ৫ রাউন্ড গুলি, একটি ডামি পিস্তল ও ১টি পিস্তলের কভার। 

দি ফ্যাশন বাইং হাউজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. সুলতান হোসেন (৪৬) গত ১৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে ১৬ জুলাই মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানাধীন সিংগাইর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অদূরে হাইওয়ে রাস্তার ঢালে ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় সুলতানের মরদেহ। এ ঘটনায় আবুল হোসেন বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মশিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুলতান হত্যার  ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা একটি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে ভুয়া পরিচয় দানকারী একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যারা হুন্ডির ব্যবসা করে, কিংবা বেশি ডলার ভাঙ্গায়, কিংবা যারা মতিঝিল ব্যাংক হতে মোটা অংকের টাকার লেনদেন করে এমন লোকদের টার্গেট করে অনুসরন করে। পরে তাদের সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে র‌্যাব পরিচয় দিয়ে গাড়ীতে উঠিয়ে হাত-পা বেধে মারধর করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমদের কাছে থাকা নগদ অর্থসহ যাবতীয় মালামাল ছিনিয়ে নেয়। অনেক সময় হতাহতের ঘটনাও ঘটে। তাদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে অনেকে চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাদের মেরে ফেলা হয়।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত