চট্টগ্রামে হাসপাতালে হাঁটু পানি, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ১০:৫৯ পিএম

টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকার মা ও শিশু হাসপাতাল ডুবে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক, সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রোগী ও তাদের সাথে আসা লোকজন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকেই আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের পুরো নিচতলায় পানি উঠতে থাকে। এতে সেখানকার বিভিন্ন সাধারণ বিভাগ, শিশু বিভাগ, অভ্যর্থনা কক্ষসহ সব কিছুই হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়।

হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষ, পরিচালনা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কক্ষ, হাসপাতালের আউটডোর, সাধারণ হিসাব বিভাগ, শিশু বিভাগের বিভিন্ন কক্ষে পানি প্রবেশ করেছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. নুরুল হক বলেন, সকাল থেকেই আমরা পানিতে তলিয়ে গেছি। জোয়ার এবং টানা বর্ষণের কারণে নিচতলায় হাঁটু পানি জমে গেছে। পানি জমে গেলেও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম আমরা বন্ধ হতে দিইনি। রোগী এবং তাদের সাথে আসা লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিকালের পর থেকে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করে বলেও জানান তিনি।

আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি চলমান করোনাভাইরাসের জন্য বিশেষ ইউনিট করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মহানগরীতে টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে করে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকাতেও পানি উঠেছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পানি নামতে শুরু করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের হিসেবে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৪৯ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মেঘনাদ তঞ্চঙ্গা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত থেমে থেমে হতে পারে।

এছাড়া সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল আছে বলেও জানান তিনি।

বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে হাসপাতাল ছাড়াও নগরীর নিম্নাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সোমবার সকালে নগরীর বাকলিয়া, প্রবর্তক মোড়, চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট, হালিশহর, সরাইপাড়া, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, নাসিরাবাদ, ডিসি রোড, কাপাসগোলা, চাক্তাই, আছাদগঞ্জ, খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

পানি জমে থাকায় এসব এলাকায় রিকশা, অটোরিকশা, টেম্পুসহ ছোট যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হয়।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে ধসের আশঙ্কায় নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তাদের জন্য নগরীতে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত