যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা ও অনেকে আহতের ঘটনায় কেন্দ্রটির আরও তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে বলে গতকাল সোমবার জানিয়েছেন জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অসিত কুমার সাহা।
নতুন করে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিনজন হলেন কেন্দ্রের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, কারিগরি প্রশিক্ষক ওমর ফারুক ও শারীরিক প্রশিক্ষক কেএম শাহানুর আলম। তারা কেন্দ্রে হতাহতের ঘটনায় করা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
যশোরের জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অসিত কুমার সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাসুদসহ আরও তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি আজ (সোমবার) হাতে পেয়েছি।’ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাসুদকে এর আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাটে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোরের মৃত্যু হয়, আহত হয় আরও অন্তত ১৫ জন। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্র্তৃপক্ষ দাবি করে, বন্দি কিশোরদের দুই দলের সংঘর্ষে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে। তবে আহত কিশোরদের ভাষ্য, কেন্দ্রের প্রধান নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে কেন্দ্র কর্মকর্তা, আনসার সদস্য ও তাদের ‘অনুগামী’ কয়েকজন কিশোরের মারধরে হতাহতের এ ঘটনা ঘটেছে।
আহতদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাসুদ ও এক কিশোরসহ ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে ঘটনা তদন্তে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর। নিহত তিন কিশোরের মধ্যে একজনের বাবা গত শুক্রবার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সেখানে নাম উল্লেখ না করে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করা হয়। এরপর কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাসুদ সাময়িক বরখাস্ত করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার রাতেই মাসুদ, মাসুম বিল্লাহসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
৮ বন্দি কিশোরকে শ্যেন অ্যারেস্ট : শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোর হত্যায় অভিযুক্ত আট বন্দি কিশোরকে শ্যেন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। এ আটজনই কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে অন্তরীণ রয়েছে হত্যা ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলায়। মামলার তদন্ত র্কমর্কতা যশোরের চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক রোকিবুজ্জামান বন্দি থাকা আট কিশোরকে শ্যেন অ্যারেস্টের জন্য গত রবিবার আদালতে আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। এ আট বন্দি হলো চুয়াডাঙ্গার আনিছ, গাইবান্ধার খালিদুর রহমান তুহিন, নাটোরের হুমাইদ হোসেন ও মোহাম্মদ আলী, পাবনার ইমরান হোসেন ও মনোয়ার হোসেন, রাজশাহীর পলাশ ওরফে শিমুল ওরফে পলান এবং কুড়িগ্রামের রিফাত আহমেদ।
