মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা গানের খাতা ও দেয়াল লিখন দেখে খুনিকে শনাক্ত করেছে কলকাতা পুলিশ।
শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা এমনটাই জানায়। কলকাতার উল্টোডাঙায় ঘটনাস্থলের পাশে খুনি হিন্দিতে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে দেয়ালে লিখেছিল- ‘সিআইডি রাজ সাবধান, আগর জাদা চালাকি করোগে, তো খুদই ফাঁস যাওগে...।’ সেই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছিল একটি গানের খাতা।
এ দুয়ের যোগসূত্র মিলিয়ে উল্টোডাঙার ডালকল খুনের মীমাংসা করেছে কলকাতা পুলিশ। আততায়ীর নাম শাকিল খান। তাকে দেশবন্ধু পার্ক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত বুধবার উল্টোডাঙার গোরাপদ সরকার লেনের একটি ডালকলের ভেতরে রাকেশ সাউ নামে বছর তিরিশের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহের গলার কাছে এবং মাথায় গভীর ক্ষত ছিল।
পুলিশ জানায়, রাতে সেখানেই ঘুমাতেন রাকেশ। ঘটনার দিন রাতেও তিনি মালিক পরেশ সাউয়ের কাছ থেকে গুদামের চাবি নিয়ে গিয়েছিলেন। সকালে পরেশ বাবু সেখানে পৌঁছে দেখেন, রাকেশের দেহ পড়ে রয়েছে। তিনিই পুলিশে খবর দেন।
খুনের তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি গানের খাতা পাওয়া যায়। তাতে হিন্দি এবং বাংলা ভাষায় বেশ কয়েকটি গান লেখা ছিল। তদন্তকারীরা লক্ষ্য করেন, দেয়ালে পুলিশের উদ্দেশে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। দেয়াল লিখনের সঙ্গে খাতার হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হয়। জানা যায়, দুটি লেখা একজনেরই।
আততায়ীর খোঁজ করার পাশাপাশি, মৃত যুবকের পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাদেরই একজনের কাছ থেকে জানা যায়, গানের খাতা শাকিল খানের। তার গান লেখার শখ ছিল। শাকিলের খোঁজ শুরু হয়।
কিন্তু খুনের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করেছিল বীরভূমের বাসিন্দা শাকিল। শেষ পর্যন্ত দেশবন্ধু পার্কের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কী কারণে, রাকেশ সাউকে খুন করতে গেল শাকিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। খুনের কথা শাকিল স্বীকার করে নিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশের। শাকিলও ওই ডালকলে অস্থায়ী কর্মী ছিল।
ইস্ট-সাবার্বান ডিভিশনের ডিসি অজয় প্রসাদ জানান, দেয়ালের লেখা এবং গানের খাতার লেখার সূত্র ধরে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কী কারণে খুন, তা স্পষ্ট নয়। পুলিশ ধারণা করছে, খুনের নেপথ্য জুয়া অথবা মাদক নিয়ে ঝামেলার কারণ থাকতে পারে।
