বরগুনায় জোয়ারে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ০২:১১ এএম

টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে বরগুনার ছয় উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে দিনাতিপাত করছে হাজার হাজার পানিবন্দি মানুষ। নষ্ট হচ্ছে বীজতলা ও ফসলি জমি। ভেসে যাচ্ছে মৎস্য খামার। অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে আমতলী উপজেলায় পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে তিন ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। 

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বরগুনার প্রধান তিনটি নদীতে বিপদসীমার উপর দিয়ে জোয়ারের পানি বয়ে গেছে। অমাবস্যার প্রভাবে পায়রা নদীতে বিপদসীমার উপর ৪৭ সেন্টিমিটার, বিষখালী নদীতে বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার এবং বলেশ্বর নদে ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়েছে।

সরেজমিনে পায়রা নদীর ফেরিঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ফেরির গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষ বুক পরিমাণ পানি পেরিয়ে সড়কে উঠছে। গ্যাংওয়ের পানিতে গাড়ি আটকে গেছে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। গত তিন দিন ধরেই এমন অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান পায়রা নদীর ফেরি কর্র্তৃপক্ষ। একই অবস্থা বড়ইতলা বাইনচটকি ফেরিঘাটেরও।

তালতলীর খোট্টার চরের ঘের মালিক মো. রাসেল হাওলাদার বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে চরের অন্তত শতাধিক ঘের তলিয়ে গেছে। ঘের তলিয়ে মাছে ভেসে গেছে। এতে আমার প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

পায়রা ফেরিঘাটের পরিচালক মো. ছালাম খান বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে গেছে। গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে থাকায় গাড়ি ও মানুষ সড়কে উঠতে পারছে না। তাই ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। গত তিন দিন জোয়ারের সময় অন্তত তিন ঘণ্টা ফেরি বন্ধ থাকে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত