দেশে হচ্ছে বছরে ১২০০ টন প্লাজমা বিশ্লেষণ সক্ষম প্ল্যান্ট

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ০২:৪৪ এএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে বছরে ১ হাজার ২০০ টন প্লাজমা বিশ্লেষণে সক্ষম প্ল্যান্ট নির্মাণ করতে চায় ওরিক্স বায়ো-টেক লিমিটেড। এর সঙ্গে ২০টি প্লাজমা সংগ্রহ স্টেশন সংযুক্ত থাকবে। এজন্য তারা ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এ বিষয়ে সামিট গ্রুপ, হাইটেক পার্ক ও ওরিক্সের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এটি হবে দেশের প্রথম প্লাজমা বিশ্লেষণ প্ল্যান্ট। পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম জানিয়েছেন, এই প্ল্যান্ট ঘিরে কর্মস্থান হবে দুই হাজার লোকের। শিগগিরই এই প্রকল্পের জন্য ওরিক্স এক কোটি মার্কিন ডলার পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে।

হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, প্লাজমা বিশ্লেষণে সক্ষম প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য ব্লক-২তে ২৫ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে হিউম্যান প্লাজমা থেকে বায়ো-টেক পণ্য উৎপাদন করবে ওরিক্স। সারা বিশ্বে এইচআইভি এইডস ও ক্যানসার রোগের চিকিৎসায় এসব বায়ো-টেক ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে।

হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম গত রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে হাই-টেক পার্ক কর্র্তৃপক্ষ একেবারে ন্যূনতম জনবল নিয়েও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ওরিক্স বায়ো-টেক লিমিটেডের পক্ষ থেকে চুক্তির এক কোটি ডলার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এখানে দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’  এতে সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে তিনি মনে করেন। 

হোসনে আরা বেগম বলেন,  ‘ওরিক্স বায়ো-টেক লিমিটেড বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে বছরে ১২০০ টন প্লাজমা বিশ্লেষণে সক্ষম প্ল্যান্ট নির্মাণ করতে চায়, যার সঙ্গে ২০টি প্লাজমা সংগ্রহ স্টেশন সংযুক্ত থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য উন্নত বিশ্বের মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে বায়ো-টেক পণ্য আরও সহজলভ্য হবে।’

এ প্রসঙ্গে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে আইসিটি বিভাগ। লাইভ করোনা টেস্ট, কভিড-১৯ ট্র্যাকার, টেলি-মেডিসিন ও টেলিহেলথ, সহযোদ্ধা-প্লাজমা প্লাটফর্ম ইত্যাদি বহু উদ্যোগের সুফল পেয়েছে দেশবাসী। আর এই করোনাকালে  ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ পাওয়া একটি বড় অর্জন, যা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ একটি অন্যরকম মাইল ফলকে পৌঁছাবে।

তিনি আরও বলেন, আইসিটি বিভাগ ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি ও ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা পূরণে হাই-টেক পার্ক অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।  ইতিমধ্যে ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। আর প্রায় ১৩ হাজার জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে হাই-টেক পার্কগুলোতে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ৩৫৫ একর জমিতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে বর্তমানে ৩৭টি কোম্পানিকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে ৫টি কোম্পানি উৎপাদন শুরু করেছে। কোম্পানিগুলো এই পার্কে মোবাইল ফোন অ্যাসেম্বলিং ও উৎপাদন, অপটিক্যাল কেবল, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ডাটা-সেন্টার প্রভৃতি উচ্চ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত